খবর লাইভ : তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি শুরু হয়ে গিয়েছে। উপযুক্ত প্রার্থী বা পছন্দের প্রার্থী না পাওয়ায় বহু জায়গায় পার্টি অফিস ভাঙচুর করা থেকে শুরু করে দল ছেড়ে দেওয়া শুরু হয়েছে জোয়ারের মত। আরাবুল ইসলামের মত ভাঙড়ের আদি তৃণমূল নেতা তো নিজেই দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন। তবে এবারে বহু ‘অযোগ্য’ ব্যক্তিকে প্রার্থী করায় দলের অন্দরেই স্রোত বইতে শুরু করে দিয়েছে। ঠিকাদারমুক্ত দলের কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেও এখন তাঁর দলেই থিকথিক করছে ঠিকাদার নেতা। এবারে হুগলির খানাকুলে প্রার্থী করা হয়েছে তৃণমূলের বিতর্কিত নেতা মুন্সি নাজবুল করিমকে। কিন্তু এই নাজবুল করিমের বিরুদ্ধে ভায়েদের দিয়ে ঠিকাদারী করানো এবং দলবিরোধী কাজ করারও অভিযোগ রয়েছে। দলে ঠিকাদার রাখা যাবে না বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বললেও নাজবুলের সুবাদে তাঁর পরিবার একের পর এক সরকারি বরাত পেত বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। নাজবুলের তিন ভাই ঠিকাদার। যা নিয়ে দলের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েছেন তৃণমূলেরই একাংশ। তা সত্ত্বেও কোনও কাজ হয়নি।
শুধু তাই নয়, ২০১৮ পঞ্চায়েত ভোটে নাজবুলের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজেরও অভিযোগ ওঠে। খানাকুলের এই নেতাকে গত পঞ্চায়েত ভোটে জেলা পরিষদের প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। কিন্তু তাঁকে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ না করায় তা নিয়ে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেছিলেন নাজবুল। মিডিয়ার সামনেই তিনি দলের বিরুদ্ধে মুখও খুলেছিলেন। গত লোকসভা ভোটেও খানাকুলের একটা অংশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল নাজবুলকে। কিন্তু সেখানে প্রায় ৩৬০০ ভোটে পিছিয়ে ছিল। অন্যদিকে, নাজবুলের বিরোধী গোষ্ঠী হিসাবে পরিচিত আলি হাসান, রাঙা ও শেখ সাকিমদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল খানাকুলের অন্য একটি অংশে। সেখানে অবশ্য ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে তৃণমূলকে লিড দিয়েছিল নাজবুল-বিরোধী গোষ্ঠীর নেতারা। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যে ব্যক্তি দলবিরোধী কাজ বারবার করল বা যার জন্য লোকসভা ভোটে তৃণমূল পিছিয়ে ছিল তাঁকেই কিনা প্রার্থী করা হল? নাজবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রাঙার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবশ্য সেভাবে কিছু বলতে চাননি। নাজবুল-বিরোধী আরেক নেতা বলেন, ‘দল এমন একজন ব্যক্তিকে প্রার্থী করেছে যাঁর কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই, ভায়েদের দিয়ে ঠিকাদারী করান, এলাকার লোকজন নাজবুলের বিরুদ্ধে রয়েছেন। তাই তাঁরাই জেতা-হারার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনবেন।’



