খবর লাইভ : ইতিহাস রচনা হয় গত বছর ২৩ অগস্ট! কারণ, প্রথমবারের জন্য চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণ করেছিল ভারতের চন্দ্রযান-৩। এবার চন্দ্রযানের সাফল্যের কারণে বিশ্ব মহাকাশ পুরস্কার পেতে চলেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। চলতি বছর ২৪ অক্টোবর ইতালিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা আন্তর্জাতিক মহাকাশচারী কংগ্রেসে ইসরোকে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে।
২০২৩ সাল। মহাকাশ গবেষণায় ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাল। প্রথমবারের জন্য হাতে চাঁদ পেয়েছে ভারত। একেবারে সরাসরি ভারতের সঙ্গে চাঁদের নাম জুড়ে হয়েছে ‘ভারতচন্দ্র’! বিগত ২৩ শে অগস্ট চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পাখির পালকের (সফট ল্যান্ডিং) ন্যায় অবতরণ করে ল্যান্ডার বিক্রম। এরপর দীর্ঘ ১৪ দিন টানা চন্দ্রপৃষ্ঠে কাজ করেছে রোভার প্রজ্ঞান। ঘুরে দেখেছে চাঁদের দক্ষিণ মেরু। আমাদের জানিয়েছে একাধিক তথ্য। ইসরোর চন্দ্রযান-তিন মিশন ইতিমধ্যেই এভিয়েশন উইক লরিয়েটস অ্যাওয়ার্ড এবং লিফ এরিকসন লুনার প্রাইজের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার নিয়ে এসেছে।
বিজ্ঞান মহলে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য। এতদিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ মিশনে সাফল্য পেলেও চাঁদ যেন অধরাই ছিল ভারতীয় বিজ্ঞানীদের। তাও পূর্ণ হয়েছে। বিক্রম এবং প্রজ্ঞান তাঁদের সঙ্গে থাকা পোলেডের মাধ্যমে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, প্রথমত, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর মাটির উষ্ণতা। দ্বিতীয়ত, চাঁদে কী কী খনিজ উপলব্ধ। তৃতীয়ত, চাঁদে ভূমিকম্প হয় কিনা। এই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে বিক্রম এবং প্রজ্ঞান।
প্রজ্ঞান জানিয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর মাটির ওপরিতলের উষ্ণতা ৪০ ডিগ্রি। অথচ মাটির মাত্র ২০সেমি গভীরে গেলে সেই তাপমাত্রা এসে দাঁড়ায় মাইনাস ১০ ডিগ্রি। এছাড়া চাঁদে সালফার, অ্যালুমনিয়াম, ক্যালশিয়াম, লোহা, ক্রোমিয়াম, টাইটেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, সিলিকন এবং অক্সিজেনের মতো খনিজের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, চাঁদেও যে ভূমিকম্প হয় অর্থাৎ সেই ‘মুনকোয়েক’-এর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এই সব কিছুই সম্ভব হয়েছে রম্ভা, ইলসা, চ্যাস্টে পোলেডের সাহায্যে।




