খবর লাইভ : কোটা বিরোধী আন্দোলনে সন্ত্রাসবাদী যোগের অভিযোগ তুললেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সন্ধ্যায় সরকারি টিভি এবং রেডিয়োতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে সংঘাতের বিচারবিভাগীয় তদন্তের ঘোষণাও করেছেন তিনি। পাশাপাশি সর্বোচ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে অনুরোধ জানিয়েছেন হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমাদের ছাত্রসমাজ উচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচারই পাবে, তাঁদের হতাশ হতে হবে না। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি, যারা হত্যাকাণ্ড ও লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, এরা যেই হোক না কেন তারা যেন উপযুক্ত শাস্তি পায়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরেই সংঘর্ষে ‘খুনের দায়ে’ জড়িতদের বিচার ও সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারীরা।
এই কর্মসূচিতে হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ছাড়া সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনও গাড়ি রাস্তায় চলবে না বলে জানিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। এর মধ্যেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বুধবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
আরও পড়ুনঃ সংরক্ষণ বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বাংলাদেশ! রাতে ফের ঢাকায় চলল গুলি
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার সুদীপকুমার চক্রবর্তী বলেন, উপাচার্যের অনুমতি নিয়েই তাঁর বাসভবন ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও আন্দোলনের অন্যতম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লা বলেন, শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ হামলা চালিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি নির্দেশ জারি হয়েছে, কোনও বহিরাগত ক্যাম্পাসে ঢুকতে বা সেখানে অবস্থান করতে পারবেন না। সেই সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের তরফে সরকারের কাছে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে বর্তমান আন্দোলনের যুক্তিসঙ্গত সমাধানের আর্জি জানানো হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণহানির পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তরফে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।




