খবর লাইভ : বাঙালিদের প্রিয় খাবার যেমন মাছ, ভাত ঠিক সেই রকমই আবার রবিবার এলেই পাতে মাংস না পড়লে যেন চলে না। কেউ বাড়ি নিয়ে আসেন খাসির মাংস, তো আবার কেউ নিয়ে আসেন মুরগির মাংস। এক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষকেই পোল্ট্রি মুরগির মাংস কিনতে দেখা যায়, কেননা তা অনেকটাই সস্তা খাসি অথবা দেশি মুরগির মাংসের তুলনায়। কিন্তু এবার এখানেই বিপত্তি বাঁধতে চলেছে।
সম্প্রতি পোল্ট্রি মুরগির মাংস নিয়ে যে বিপত্তির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে তাতে বাজারে আর পোল্ট্রি মুরগির মাংস আসবে কিনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। এছাড়াও যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে যদি কোথাও পোল্ট্রি মুরগির স্টক থাকে তাহলেও তার দাম অনেকটাই চড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসবের পিছনে যে কারণ রয়েছে তা মূলত ধর্মঘট।
পোল্ট্রি মুরগি সরবরাহকারী যে পোল্ট্রি সংগঠন রয়েছে তাদের তরফ থেকে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্য জুড়ে পোল্ট্রি মুরগি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে যা দাবি করছে তা হল, গত ১১ জুলাই মাঝরাতে পোল্ট্রি মুরগি বোঝাই করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশি হেনস্তার শিকার হন গাড়ির চালক ও খালাসীরা। ঘটনাটি ঘটে বেলদা থানা এলাকায়। পুলিশি জুলুমে সমীর ঘোষ নামে এক চালক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
এমন ঘটনার পর পুরো বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও পুলিশের তরফ থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। পুলিশের তরফ থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করার পরিপ্রেক্ষিতে পাঁশকুড়ার মেছোগ্রাম থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে সংগঠনের তরফ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৮ জুলাই মধ্যরাত থেকে তারা রাজ্য জুড়ে পোল্ট্রি মুরগি সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। কতদিন এমন সরবরাহ বন্ধ থাকবে তা স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়নি। তাদের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, মধ্যরাতে পোল্ট্রি মুরগি সরবরাহ করার সময় পুলিশের তরফ থেকে গাড়ি আটকে তোলা আদায় করা হয়। তোলা দিতে অস্বীকার করা হলেই চলে পুলিশের জুলুমবাজি। আর এই ঘটনার প্রতিবাদের জন্যই এমন ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার যদি এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে এই ধর্মঘট চলবে।




