খবর লাইভ : রেল দুর্ঘটনায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের সঙ্গে ধাক্কায় মালগাড়ির দুই চালকই মারা গিয়েছিল বলে প্রথমে জানিয়েছিল রেল। ইতিমধ্যে মালগাড়ির মৃত এক চালকের বিরুদ্ধে এফআইআরও রুজু করেছে পুলিশ। পরে জানা যায়, মালগাড়ির সহ চালক গুরুতরভাবে জখম হযেছেন।
বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সহ চালক মনু কুমার। হাসপাতাল সূত্রের খবর, জ্ঞান ফিরলেও দুর্ঘটনার আতঙ্ক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও মানসিকভাবে
বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন। মাঝেমাঝে জ্ঞানও হারিয়ে ফেলছেন তিনি।
রেল সূত্রে খবর, যদিও মালগাড়ির চালক, সহকারী চালক ও গার্ডকে দায়ী করার বিষয়টিতে সহমত পোষণ করেননি এনজেপির ‘চিফ লোকো ইনস্পেক্টর’ (সিএলআই) ওমপ্রকাশ শর্মা। পর্যবেক্ষণ রিপোর্টেই তাঁর মত উল্লেখ করা হয়েছে বলেই দাবি ওই সূত্রের। ওমপ্রকাশের মত, যে হেতু ভোর ৫টা ৫০ থেকে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বিকল হয়ে ছিল, তাই এ ক্ষেত্রে ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে ‘টি/এ ৯১২’ ফর্ম দেওয়া উচিত হয়নি। উচিত ছিল ‘টি/ডি ৯১২’ ফর্ম দেওয়া। ঘটনাচক্রে, স্টেশনমাস্টারই এই অনুমতি দিয়ে থাকেন। সেই জন্যে প্রশ্নের মুখে পড়েছে স্টেশনমাস্টারের ভূমিকা।
এদিন সকালে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই রেলপথে ছয় মাস আগে সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে। কিন্তু গত ছয় ঘণ্টা ধরে ওই রেলপথে প্রযুক্তিগত কোনো ত্রুটির জন্যই স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু ছিল না। ফলে পুরানো পদ্ধতিতেই রেলপথ দিয়ে চালানো হচ্ছিল ট্রেন। রেল কর্মচারীদের বক্তব্য, ‘‘ আসলে ভারতীয় রেলের নিজস্ব সিগন্যাল ব্যবস্থা আছে। তার আধুনিক বিভাগও আছে। কিন্তু বর্তমানে গোটা ব্যবস্থাকেই বেসরকারিকরণের মধ্য দিয়ে আউটসোর্স করে দেওয়া হয়েছে। এখন অটোমেটেড সিগন্যাল ব্যবস্থার বরাত দেওয়া হয়েছে বেসরকারি হাতে। আবার সেই ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে তার রক্ষণাবেক্ষণের বরাত দেওয়া আছে অন্য এক সংস্থার হাতে।’’




