খবর লাইভ : বালি, পাথর ও কয়লা পাচারের আখড়া যদি যথাক্রমে পুরশুড়া, খানাকুল, ইলামবাজার, বাঁকুড়া এবং সিউড়ি হয়ে থাকে তবে বেআইনি মাটি পাচারের স্বর্গরাজ্য হুগলির চণ্ডীতলা। গতবছর চণ্ডীতলা থানার মশাট, কলাছড়া এলাকায় মাটি কাটা নিয়ে বারবার পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন এলাকাবাসীরা। এবছর আবার চণ্ডীতলার ভগবতীপুর মাটি মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। শাসক দলের মদতে ও পুলিশের নীরব ভূমিকার জেরেই এই বেআইনি কাজ রমরমিয়ে চলছে। শয়ে শয়ে মাটির গাড়ি রাতের অন্ধকারে চলার ফলে ঘুমোতে পাছেন না ভগবতীপুর, হরিপুর এলাকার লোকজন। শুধু তাই নয়, মাটির গাড়ি চলার ফলে নতুন রাস্তার বেহাল অবস্থা দেখা দিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনকে বারবার অভিযোগ করলেও কোনও সুরাহা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনের বসবাস এই অঞ্চলে বেশি। এলাকার লোকজন সন্ধ্যার পর থেকে বাড়ির বাইরে বেরোতে পাচ্ছেন না। প্রতিবাদ করাই তাঁদের স্থানীয় মাটি মাফিয়া জাকির, খোকন, মতিরা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে খুনের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, মহিলাদের ধর্ষণেরও হুমকি দিচ্ছে। মাটি মাফিয়ারা এলাকায় তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী বলে দাবি ওই এলাকার লোকজনের। পুলিশ ও প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পুলিশের মদত থাকার কারণেই মাটি মাফিয়ারা এতটা বেপরোয়া বলে এলাকাবাসীদের দাবি।

পুলিশ ও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ওই এলাকার লোকজন মুখ্যমন্ত্রী, জেলাশাসক, পুলিশের উঁচু স্তরে অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছেও অভিযোগ গেছে।
প্রসঙ্গত, কয়লা পাচার মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন বাঁকুড়া থানার আইসি, জেরা করার জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে সিউড়ি থানার ওসিকে। গরু পাচার মামলাতেও বেশ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক ইডি ও সিবিআইয়ের স্ক্যানারে রয়েছেন। তারপরেও মাটি পাচার বন্ধ না হওয়ায় চণ্ডীতলা থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কিছুদিন আগেই গরু পাচার নিয়ে চণ্ডীতলা থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছিল বিজেপি। মাটি পাচার নিয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ওখানকার লোকজনের কথা ভেবে আমরা শীঘ্রই হাইকোর্টে মামলা করব।’
আইএসএফ নেতা নওসাদ সিদ্দিকিও পথ অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তৃণমূলের স্থানীয় এক নেতা বলেন, ‘সমাজবিরোধীদের দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে দলেরই এক বহিরাগত যুব নেতা। যার দাপটে অতিষ্ট ডানকুনি ও চণ্ডীতলার মানুষ।’
নবান্নের এক কর্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ওই কর্তা বলেন, ‘জেলাশাসক অনুমতি দিয়েছেন বলে কারচুপি করে কাজ করার অভিযোগ পেয়েছি। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
এলাকার এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে আমরা এখানে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করব।
এখন দেখার, কতদিন পর খোকন, মতি, জাকিরের মতো মাটি মাফিয়াদের রাশ টানতে সক্ষম হয় প্রশাসন।




