State

শাহি মন্ত্রকের পরে এবার আসরে মোদির অধীনস্ত মন্ত্রক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আলাপনকে ফের শোকজ

0
(0)

খবর লাইভ : রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা আটকে দিতে এবার আসরে নামল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনস্ত কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রক। কলাইকুণ্ডায় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে গরহাজির থাকার ঘটনায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে ফের রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিবকে কারণ দর্শানোর চিঠি ধরানো হয়েছে সোমবার। ৩০ দিনের মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে কিংবা লিখিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের উত্তর না দিলে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রক। সূত্রের খবর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিতভাবেই জবাব দেবেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব। শুধু জবাবই দেবেন না, কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রকের রাজনীতির উপযুক্ত জবাব দেবেন তিনি।

ঘূর্ণিঝড় যশ নিয়ে কলাইকুণ্ডায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত না থাকার জন্য রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সবক’ শেখানোর জন্য আসরে ঝাঁপিয়েছিল কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রক। তড়িঘড়ি রাজ্য থেকে দিল্লিতে বদলি করা হয় তাঁকে। ৩০ মে সকাল ১০টার মধ্যে দিল্লির নর্থ ব্লকে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু রাজ্য সরকার তাঁকে না ছাড়ায় দিল্লিতে যেতে পারেননি আলাপন। শুধু তাই নয়, পরের দিন ৩১ মে নিজের কর্মজীবনের শেষদিনেই অবসর নিয়ে নেন তিনি। অবসরের পরেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিবকে নিজের মুখ্য উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তারপরেই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আলাপনকে শোকজ করে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। কেন মহামারী মোকাবিলা আইনে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় বাংলার প্রাক্তন মুখ্যসচিবের কাছে। ৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে আলাপন জানিয়ে দেন, ‘রাজ্যের মুখ্যসচিব হিসেবে সর্বময় কর্ত্রী ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশে যেমন কলাইকুণ্ডায় বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন, তেমনই তাঁর নির্দেশে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন।’
প্রথম চিঠির জবাব পাওয়ার প্রায় ১৭ দিন বাদে ফের এক যুক্তি হাজির করে পুনরায় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিবকে কড়া চিঠি পাঠিয়ে কেন্দ্রের মোদি সরকার বুঝিয়ে দিল, আলাপন ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতে পিছু হটার প্রশ্ন নেই।
এদিনের চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে নিজের বক্তব্য জানাতে পারেন আলাপন। আত্মপক্ষ সমর্থনে সশরীরে উপস্থিত হয়েও নিজের বক্তব্য জানাতে পারবেন। আর যদি কোনওটাই না করেন, তাহলে সর্বভারতীয় প্রশাসনিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার (অল ইন্ডিয়া রিক্রুটমেন্ট সার্ভিসেস) ৮ এবং ৬ নম্বর বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। যার আওতায় অবসরকালীন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন আলাপন। উল্লেখ্য, যে ছয় নম্বর বিধির উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে, সেই বিধি অনুযায়ী গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও আমলার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হলে মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার-পরিজনরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *