Special News State

‘জম্মু কাশ্মীরের মতো মুখ বন্ধ করে রাখতে হবে?’ বাংলাকে ভাগ করতে দেব না, গর্জন মমতার

0
(0)

খবর লাইভ : বিধানসভা ভোটে গো-হারার পরেই রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে কীভাবে বিপাকে ফেলা যায় তার ছক কষে চলেছেন বিজেপি নেতাদের একাংশ। তাতে সর্বশেষ সংযোজন হল, উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণার দাবি। বিজেপি নেতাদের সেই নতুন করে ‘বঙ্গভঙ্গের’ ছকের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্নে ভার্চুয়ালি সাংবাদিক সম্মেলনে হুঙ্কার ছাড়লেন, ‘কিছুতেই বাংলাকে ভাগ করতে দেব না। কোনওরকম ডিভাইড অ্যান্ড রুল আমরা করতে দেব না। বাংলা বাংলাই থাকবে।’ মোদি সরকার যেভাবে জম্মু-কাশ্মীরে মানুষের অধিকার কেড়েছে, তা বাংলায় করতে এলে পরিণতি ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কদের একাংশ যেভাবে উত্তরবঙ্গকে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ যেন মনে হচ্ছে মহারানি নিজেই নিজের ঘরে অলঙ্কার বিতরণ করছেন। পশ্চিমবঙ্গ ইজ পশ্চিমবঙ্গ। দক্ষিণবঙ্গও যেমন পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে, উত্তরবঙ্গও তেমনই পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে। কোনওরকম ডিভাইড অ্যান্ড রুল আমরা করতে দেব না। বিজেপি যদি মনে করে আমি জলপাইগুড়িটা বিক্রি করে দেব, অত সস্তা নয়। বিজেপি যদি মনে করে আমি কোচবিহারটা বিক্রি করে দেব, অত সস্তা নয়। নিজেরা দিল্লি সামলাতে পারে না, কেন্দ্রীয় শাসিত এলাকা মানেটা কী? কাশ্মীরের মতো মুখ বন্ধ করে রেখে দেওয়া? তাঁদের নজরবন্দি করে রেখে দেওয়া? তাঁদের অধিকার কেড়ে নেওয়া? তাঁদের সম্পত্তির অধিকার, তাঁদের বাঁচার অধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাকে টুকরো টুকরো করে দেওয়া? কার স্বার্থে সেটা করবে? এ সব করা এত সহজ নয়। এর জন্য রাজ্যের অনুমতি লাগে।’ বঙ্গভঙ্গের নয়া তত্ত্ব হাজির করা বিজেপি নেতা-কর্মীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ভোটে হেরেও শিক্ষা হয়নি ওঁদের। যাঁরা দু-চারটে ফেক ভিডিও করে বাংলাকে বদনাম করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের পরে বুকে লিখে ঘুরতে হবে, বিজেপি করি না।’ বিজেপির ‘বঙ্গভঙ্গের’ ছক সফল করতে দেবেন না বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মমতা বলেন, ‘বাংলাকে পরাধীন করতে দেব না। বাংলাকে ভাগ করতে চাওয়ার উপযুক্ত জবাব দেবে মানুষই। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদেরও এতে ইন্ধন রয়েছে। তাঁদের বলব, এসব করবেন না।’
এদিন খাদ্য সাথী ও ধান সংগ্রহ নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকে খাদ্য দফতরকে সাত দফা নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সাতদিনের মধ্যে সমস্ত মৃত রেশন গ্রহীতার তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের রেশন কার্ডের নম্বর, মৃত্যুর শংসাপত্র ইত্যাদি সংগ্রহ করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে এই কাজে আইসিডিএস-এর কর্মীদের কাজে লাগাতে হবে। সব রেশন কার্ডের সঙ্গে যত শিগগিরই সম্ভব আধার সংযোগ করতে হবে। যাঁরা শুধুমাত্র পরিচয়পত্র হিসাবে রেশন কার্ড ব্যবহার করেন কিন্তু রেশনে খাদ্য সামগ্রী তোলেন না, সেই তালিকাও তৈরি করতে বলা হয়েছে। খাদ্যশস্য মজুতের জন্য নতুন গোডাউন তৈরির জন্য জমির খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে হবে।’
সম্প্রতি দেশের শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারকে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান রেশন’ প্রকল্প কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। সে প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। আমরা তিন মাসের মধ্যে করে দেব। আধার কার্ড সংযোগের একটা বিষয় আছে। তার জন্য কিছুটা সময় লাগবে।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *