খবর লাইভ : কৃষি বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পরেই মোদি বিরোধী জোটের ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সব রাজ্যকে একজোট হওয়ার আর্জি জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘রাজ্য সরকারগুলোর একটা ইউনিয়ন তৈরি করা উচিত। যাতে কোনও রাজ্যের বিরুদ্ধে অন্যায় কিছু হলে সবাই একসঙ্গে প্রতিবাদ করা যায়। এক রাজ্যেকে বিজেপি আক্রমণ করলে, বাকি রাজ্যগুলিকে রুখে দাঁড়াতে হবে।’ দেশে নোট বন্দির মতো সাধারণ মানুষের কথা বলা বন্ধ করার মতো মোদি সরকার ন্যক্কারজনক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
নরেন্দ্র মোদি সরকারের ‘সর্বনাশা’ তিন কৃষি বিল প্রত্যাহার নিয়ে গত সাত মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালাচ্ছে দেশের একাধিক কৃষক সংগঠন। পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটের সময়েও জমি আন্দোলনের দুই আঁতুরঘর নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরে সভা করে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন রাকেশ টিকায়েত সহ আন্দোলনকারী কৃষক নেতারা। বিজেপিকে রুখে গোটা দেশেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এদিন নবান্নে এসে তাই তৃণমূল নেত্রীকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি কৃষক আন্দোলনে তাঁকে পাশে থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন রাকেশ টিকায়েত সহ আন্দোলনকারী কৃষক নেতারা।
আন্দোলনকারী কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ‘অতীতের মতো ভবিষ্যতেও কৃষক আন্দোলনের পাশে থাকবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বিধানসভায় কৃষি বিলের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করেছি। প্রথমদিন থেকে কৃষক আন্দোলনের পাশে আছি। আমাদের অনেক সাংসদ সমর্থন জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন। ওদের আন্দোলনে আমাদের সমর্থন আছে। আমরা সিঙ্গুর আন্দোলন করেছিলাম কৃষকদের স্বার্থেই। জোর করে কৃষকদের জমি নেওয়ার বিরোধী আমি। এরাজ্যে এই জন্য আইনও তৈরি করেছি। কৃষক আন্দোলন শুধু পঞ্জাব-হরিয়ানার বিষয় নয়, এটা গোটা দেশের বিষয়। সব রাজ্যকে একত্রিত করে আন্দোলন করতে হবে। আমি মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলব। যত দিন দাবি আদায় না হয়, আন্দোলনকে সমর্থন করতে হবে।’
বিতর্কিত তিন কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গায়ের জোরে কৃষি আইন পাশ করেছে কেন্দ্র। জানুয়ারি মাসের পর থেকে আন্দোলনকারী কৃষক নেতাদের সাথে কথাই বলেনি। তিনটে বিল প্রত্যাহার করলে কী ক্ষতি হবে? রোজ পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ছে। ওরা কারও কথা ভাবে না। কৃষকরা চাষবাস কী করে করবে? কৃষক আন্দোলন আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।’
বিধানসভা ভোটে বিপুল জনাদেশ পেয়ে তৃতীয়বারের মতো বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হলেও তাঁর লক্ষ্য যে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি থেকে হঠানো তাও এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, ‘গত সাত বছরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার শুধু দেশে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকে শুধু সর্বনাশা কালো আইন আনা ছাড়া কোনও কাজ করেনি। সাত বছরে বিজেপি যে রাজত্ব চালাচ্ছে তা শুধু বে-রোজগারি বাড়ানোর জন্য। এমন সব আইন পাশ করিয়েছে যাতে আজ কৃষি-শিল্প সব সমস্যায়। দেশের অর্থনীতির আজ ডিজাস্টার হয়ে গেছে। অফিসারদেরকেও ভয় দেখাচ্ছে। ওদের লেখার ও কিছু বলার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নোটবন্দির মতো বোলি বন্ধ করা হয়েছে। বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ করতে চাই বিজেপি। কিন্তু আমাদের আটকাতে পারবে না।’
মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে জোট বাঁধারও আর্জি জানিয়েছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘বিজেপির বহু পুরনো নেতা রয়েছেন, যাঁরা পুরনো ঘরানার মানুষ। আর যে যুবকরা মোদিকে দেখে চলে গিয়েছিলেন, তাঁদের সবাইকে বলছি, ফিরে আসুন। একজোট হয়ে দেশকে বাঁচাতে, কৃষকদের বাঁচাতে, যুবকদের বাঁচাতে, শ্রমিকদের বাঁচাতে হবে।’ মোদি বিরোধী জোটকে নেতৃত্ব দেবেন কিনা, এদিন সেই প্রশ্নের জবাবে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার লক্ষ্য একটাই, মোদিকে ক্ষমতা থেকে হঠানো।’
দেশে কোভিড পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মোদিকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভাষণ ছাড়া আর কিছুই দেন না। এখন বলছে রাজ্যকে ভ্যাকসিন কিনে দেবে। কেন্দ্র কেন ছয় মাস আগে এটা করেনি? ফ্রি ভ্যাকসিন তো বিজেপি নিজের পকেট থেকে দিচ্ছে না। দেশের জনগনের টাকা থেকে দিচ্ছে। করোনা মোকাবিলার জন্য বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি টাকা কোথায় গেল? পিএম কেয়ারস ফান্ডে কত টাকা আছে ? কোভিড ভ্যাকসিনের উপর জিএসটি লাগু করছে। এটা তো মানুষ মারার চক্রান্ত।’
মমতার সঙ্গে বৈঠকের পর কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের মানুষের কাছে অনুরোধ করছি, বিজেপিকে ভোট দেবেন না। বিজেপি দেশের ক্ষতি করছে। মমতা দিদি বাংলাকে বাঁচিয়ে নিয়েছেন। এবার দেশ বাঁচানোর পালা। বিজেপি থাকলে দেশ থাকবে না। বিজেপি না থাকলে দেশ বাঁচবে।’ আগামী দিনে বিভিন্ন রাজ্যেও বিজেপির ‘সর্বনাশা’ নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।




