খবর লাইভ : এবার দিল্লিতে মৃত্যু বাঙালি যুবকের। পরিবারের দাবি, বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল তাঁকে। ইলেকট্রিক শকও দেওয়া হয় ওই যুবককে। কিন্তু কী কারণে? তা এখনও বুঝে উঠতে পারছে না দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার রাক্ষসখালি গ্রামের প্রবাসী পরিবারটির অন্য সদস্যরা।
মৃতের নাম অসিত দাস। বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাড়ে সাত কিলোমিটার দূরে আজাদপুরের জাহাঙ্গীরপুরির ঘিঞ্জি বস্তিতে থাকতেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার আর পাঁচটা দিনের মতোই বাবা মন্টু দাসের সঙ্গে কাজে বেরিয়েছিলেন অসিত। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁরা নোংরা আবর্জনা নিয়ে আসেন। সেখান থেকে উপার্জন হয় কিছু টাকা। তারপর আবর্জনায় বসে নোংরা থেকে জিনিস ঝাড়াই বাছাই করে তা বিক্রি করেও উপার্জন হতো কিছু টাকা। রাস্তায় ভ্যানের চাকা পাংচার হয়ে গেলে গ্যারেজে সারাই করতে দিয়ে বাড়িতে টাকা আনতে যান অসিত। অভিযোগ, এমন সময়ই দুটি বাইকে করে এসে তাঁকে মারতে মারতে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যায় মেট্রো প্রোজেক্টে কর্মরত চারজন গার্ড। এমনটাই দাবি স্থানীয় এক চা বিক্রেতার।
খবর পেয়েই আশপাশের তিনটি থানায় খোঁজখবর শুরু করেন অসিতের বাবা। দুপুরের দিকে জাহাঙ্গীরপুরি থানা থেকে খবর আসে, খালের ধারে একটি মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় জগজীবন হাসপাতালে গিয়ে দেহটি শনাক্ত করে দাস পরিবার। এরপরই দোষীদের শাস্তির দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। প্রায় ঘণ্টা পাঁচেক পথ অবরোধও করেন হাজার দুয়েক মানুষ। এরপর প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় দুজনকে।
পরে বেশ কয়েকটি ভিডিও সামনে আসে। যেখানে অসিতকে মারধরের পাশাপাশি ইলেকট্রিক শক দিতে দেখা যাচ্ছে। মৃতের বাবা জানান, দিল্লিতে আসার মোটেই ইচ্ছে ছিল না ছেলের। অসিত ত্রিপুরায় মজুরের কাজ করত। লকডাউনের সময় পাথরপ্রতিমায় ফিরেছিলেন। তারপর থেকে প্রায় বসেই ছিলেন তিনি। মাস দুয়েক আগে তাঁকে দিল্লিতে ডেকেছিলেন বাবা। অসিতের একরত্তি সন্তানও আছে। অভাবের সংসারে কী ভাবে তাকে বড় করে তুলবে, এখন সেটাই ভাবাচ্ছে দাস পরিবারকে।




