National

করোনার ভোগাতে পারে লম্বা সময়, প্রভাব এড়াতে এখনই প্রস্তুতির দরকার ভারতের

0
(0)

খবর লাইভ : কোভিড- ১৯-এর দ্বিতীয় অভিঘাতে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। অক্সিজেনের ঘাটতি রয়েছে, আইসিইউ শয্যা নেই, করোনা পরীক্ষার ফল জানানো হচ্ছে দেরিতে ও চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা সমস্যা। এরই মধ্যে চিন্তা বাড়িয়ে নতুন একটি সমীক্ষা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবজনিত স্বাস্থ্য সংকট উঁকি দিচ্ছে দেশের আকাশে। যদিও ‘দীর্ঘ কোভিডে’র কোনও সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। বরং বলা হয়েছে যে, প্রাথমিক ভাবে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তার প্রভাব কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস ধরে থাকতে পারে। এই ‘দীর্ঘ কোভিডে’র ভয় শুধু বয়স্ক নয়, শিশুদেরও রয়েছে।

প্রখ্যাত নেচার পত্রিকায় সম্প্রতি একটি পিয়ার রিভিউড সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৭৩৪৩৫ জন কোভিড রোগীর স্বাস্থ্যের রেকর্ড নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি, কিন্তু মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল ৬০ শতাংশ। হাসপাতালে ভর্তি না হওয়া এই কোভিড রোগীদের পর্যাপ্ত মেডিকেল প্রযত্নের দরকার আছে। ভি এ সেন্ট লুইস হেলথ কেয়ার সিস্টেমের গবেষণা ও উন্নয়ন পরিষেবার প্রধান জিয়াদ আল আলি জানিয়েছেন, দীর্ঘ কোভিড একটি বহুমুখী রোগ। শ্বাসযন্ত্র, হৃদপিণ্ড, স্নায়ুতন্ত্র, মানসিক স্বাস্থ্য, কিডনি সহ বহু প্রত্যঙ্গে এটি প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) রিপোর্ট অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি না হওয়া ৩১৭১ জন করোনা রোগীর মধ্যে ৬৯ শতাংশকেই আক্রান্ত হওয়ার পরের ছয় মাস নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় থাকতে হয়েছে। মস্কোর বাশ্লেভা চিল্ড্রেন্স মিউনিসিপ্যাল ক্লিনিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৫১৮ জন শিশুর অভিভাবকের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন গবেষকরা। জানা গিয়েছে, হাসপাতাল ছাড়ার সাত থেকে নয় মাস পর্যন্ত ২৪ শতাংশ শিশুর দেহে রোগের উপসর্গ ছিল। ব্রিটেনের এক সংস্থা জানাচ্ছে, কোভিড সংক্রমণের পাঁচ সপ্তাহ পরেও ১১ বছরের কম বয়সীদের ১৩ শতাংশ ও ১২-১৬ বছর বয়সীদের ১৫ শতাংশের দেহে অন্তত একটি উপসর্গ বিদ্যমান ছিল।

বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন যে, যদি এখনই করোনা বিষয়ে নজর দেওয়া না হয় পর্যাপ্তভাবে তাহলে স্বাস্থ্যগতভাবে দুর্বল শ্রেণির মধ্যে গণ স্বাস্থ্য-সংকট দেখা দেবে। সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণস্বাস্থ্যের অধ্যাপক ডা. নিসরিন আল আলওয়ান জানিয়েছেন, বিশ্বের নেতাদের দীর্ঘ কোভিড নিয়ে সন্ত্রস্ত হওয়া উচিত। যে সব দেশে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব রয়েছে সেখানে বিপুল পরিমাণে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নেতারা কি মনে করে প্রচুর মৃত্যুর ঢেউ পেরিয়ে এটি শেষ হবে? নিসরিন জানিয়েছেন, তা কিন্তু হবে না। হার্ভার্ড টিএইচ চান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের ইমিউনোলজি ও সংক্রামক রোগ বিভাগের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু চান বলেছেন, গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে মাল্টি-কেয়ার ও বহুমাত্রিক হতে হবে।

ভারতে কতজন দীর্ঘ কোভিডে ভুগতে পারেন আগামীতে তার কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই। তবে ব্রিটেনের প্রাথমিক তথ্য থেকে একটা আঁচ পাওয়া যেতে পারে। ব্রিটেনের জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে অন্তত ১.১ মিলিয়ন মানুষের দীর্ঘ কোভিডের উপসর্গ ধরা পড়েছে। ভারতে যেভাবে করোনার প্রকোপ বাড়ছে তাতে ভবিষ্যতে দীর্ঘ কোভিড রোগীর সংখ্যা কল্পনাতীত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *