খবর লাইভ : তীব্র গরম পড়তেই ব্লাড ব্যাঙ্ক গুলিতে রক্তের আকাল। এ আর নতুন কথা কী! এবার অবশ্য তার সঙ্গে জুটেছে কোভিড এবং ভোট। যার জেরে রাজ্যে শুরু হয়েছে আরও রক্তের আকাল। নতুন করে আবার চিন্তা করোনা রুখতে টিকাকরণ। ১ মে থেকে ১৮ ঊর্ধ্ব সবাই টিকাকরণ এর আওতায় চলে আসবেন। আর একবার টিকা নিলে ২৮ দিন পর্যন্ত কোনও রক্ত দেওয়া যাবে না। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসক থেকে রক্তদান শিবিরের আয়োজকদের আর্জি, টিকাকরণের আগেই রক্তদান করার।
তথ্য বলছে রাজ্যের ৮৬ টি সরকারি ব্লাড ব্যাংক। সবকটির ভাড়ার প্রায় শূন্য। বেসরকারি হাসপাতালেরও একই হাল। ডোনার যোগাড় করতে না পারলে মিলছে না রক্ত। কিন্তু কেন এই রক্তের আকাল? চিকিৎসকরা বলছেন, এই অতিমারির সময় রক্তদাতা কে হবেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। গরমের সময় প্রত্যেকবারই রক্তের সংকট থাকে। এবছর তারপরে শুরু হয়েছে করোনার প্রকোপ। এখনই শুরু হয়েছে টিকাকরণের কর্মসূচি। জাতীয় রক্তসঞ্চালন পর্ষদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনার দুটি ডোজ করে রক্ত দিতে হলে অপেক্ষা করতে হবে কমপক্ষে দুই থেকে তিন মাস।
রাজনৈতিক দল এবং শাখা সংগঠন গুলির উদ্যোগে অন্যান্যবার ব্লাড ব্যাংক গুলি রক্ত পেয়ে থাকে। এবার ভোট প্রচারের প্রতিযোগিতায় রক্তদান শিবির তেমন একটা গুরুত্ব পায়নি। করোনার জন্য গত বছরও রক্ত সংকট দেখা দিয়েছিল। এবছর আবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলি রক্তদান শিবির করতে পারে। কিন্তু কোন রাজনৈতিক প্রতীক ছাড়া। ফলে প্রতীক ছাড়া রক্তদান শিবিরের উদ্যোগ দেখাতে এগিয়ে আসেনি কোনও রাজনৈতিক দলই।
ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরাম এর সাধারন সম্পাদক অপূর্ব ঘোষ বলেন, রাজ্যে রক্তের হাহাকার শুরু হয়েছে। এবার গরমের সময় ভোট। তারওপর করোনা। সেই কারণে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। আগামী দিন কী হবে, তা ভাবতেই ভয় লাগছে।



