খবর লাইভ : কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলায় মোদি সরকার একেবারেই ‘প্রস্তুতিহীন’ এবং ‘তাৎক্ষণিক’ সিদ্ধান্ত নিয়ে গোটা বিষয়টা দেখছে বলে শনিবার অভিযোগ করলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি। পাশাপাশি কেন্দ্রকে কয়েকটি জরুরি পরামর্শও দিয়েছেন। যেমন টিকা নেওয়ার বয়স ২৫-এ নামিয়ে আনা ও সাধারণ মানুষের হাতে টাকা দেওয়ার কথা। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) সভায় সোনিয়া আরও অভিযোগ করেন যে, কয়েকটি রাজ্যকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে কেন্দ্র ও যে রাজ্যগুলিতে কংগ্রেস বা বিরোধী দলের সরকার রয়েছে সেখানে বারবার আবেদন সত্ত্বেও ‘বজ্রকঠিন নীরবতা’ পালন করছে মোদি সরকার। তিনি বলেন, কংগ্রস সবসময় বিশ্বাস করে যে, কোভিড-১৯ অতিমারি একটি জাতীয় সংকট এবং সমস্ত দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এর মোকাবিলা করতে হবে। তাঁর দাবি, গত বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস থেকে কংগ্রেস সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউ দেশে আছড়ে পড়েছে, সেটা ভুললে চলবে না। প্রস্তুত হওয়ার জন্য এক বছর সময় পাওয়া গেলেও দুঃখজনকভাবে কিছুই তেমন করা হয়নি।
বিরোধী দলের গঠনমূলক পরামর্শ শোনার বদলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বিরোধী নেতাদের আক্রমণে ব্যস্ত ছিলেন। এই ‘আমি বনাম তুমি’র তর্ক একেবারে শিশুসুলভ ও অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেন সোনিয়া গান্ধি। তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জিএসটির প্রসঙ্গ বারবার উঠে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীদের বক্তব্য, করোনা চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত সমস্ত উপাদান ও উপকরণ জিএসটি মুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি তিনি বলেন, রেমডেসিভির ও মেডিকেল ওক্সিজেনের মতো জীবনদায়ী ওষুধের উপর ১২ শতাংশ জিএসটি নেওয়া হচ্ছে। এর তীব্র বিরোধীতা করেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আংশিক কার্ফিউ, যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা ও লকডাউন ঘোষণা করতে চায়। এতে আবারও অর্থনৈতিক কাজকর্মে বাধা পড়বে এবং ক্ষতিগ্রস্থ হবে মূলত দরিদ্র ও দিনমজুররা। এই কঠিন সময়ে রাজনৈতিক বিরোধীর চেয়ে ভারতীয় হিসাবে ‘রাজধর্ম’ পালনে বেশি জোর দিতে চান বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী সভাপতি।




