State

অশান্ত চতুর্থ দফা,বঙ্গে ঝরল ৫ প্রাণ

0
(0)

খবর লাইভ : পাঁচ প্রাণের বিনিময়েই শেষ হল বঙ্গের চতুর্থ দফার ভোট পর্ব। জীবনে প্রথম ভোট দেওয়ার জন্য ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারাতে হল ১৮ বছরের এক কিশোরকে। আর ‘অশান্তি’ থামানোর অছিলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নির্বিচারে চালানো গুলিতে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়লেন আরও চার জন। দুটি ঘটনায় ঘটেছে রাজনৈতিক সন্ত্রাস আর হিংসার আঁতুরঘর হয়ে ওঠা কোচবিহারের শীতলকুচিতে।
পাঁচ প্রাণ ঝরার পাশাপাশি দিনভর আরও বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন প্রান্তে। অশান্তির অভিযোগের বহর প্রথম তিন দফাকে অবলীলাক্রমে হারিয়ে দিয়েছে। দিনভর মোট ২ হাজার ৩৭১টি অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। গ্রেফতার হয়েছেন ৬ জন। রক্তস্নাত ভোটকে অবশ্য শান্তির ভোট হিসেবেই আখ্যা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব।
রাজ্যের পাঁচ জেলার ৪৪ আসনে এদিনের ভোটে ভাগ্যপরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, হাফ ডজন রাজ্য মন্ত্রী, দুই সাংসদ, পাঁচ দলবদলু বিধায়ক এবং বেশ কয়েকজন টলি তারকা। একটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার আশা করেছিলেন আমজনতা। কিন্তু সকাল থেকেই আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল, বঙ্গে ভোট ঘিরে রাজনৈতিক হিংসার ট্র্যাডিশন বজায় রাখছে ভোট চতুর্থীও।
পাঁচ জেলার মধ্যে একমাত্র উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে ভোটকে ঘিরে তেমন অশান্তির খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু কোচবিহার আর দক্ষিণবঙ্গের তিন জেলায় দিনভর অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অশান্তির কেন্দ্রে ছিল অবাধ ভোটের অছিলায় রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা। চতুর্থ দফার ভোটে সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছে কোচবিহারের শীতলকুচিতে। পাসঠানটুলি শালবাড়ির ২৮৫ নম্বর বুথে জীবনের প্রথম ভোট দিতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন ১৮ বছরের তরুণ আনন্দ বর্মণ। ঘটনার জন্য তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দায়ি করেছে বিজেপি। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্ব।
সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সকাল পৌনে দশটা নাগাদ শীতলকুচিরই জোড়পাটকি এলাকার ১২৬ নম্বর বুথে ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তকমাধারী সিআইএসএফের জওয়ানদের নির্বিচারে চালানো গুলিতে মারা যান হামিদুল হক, সামিয়ুল হক, মনিরুল হক, নুর আলম নামে চার তৃণমূল সমর্থক। গুলিবিদ্ধ হন আরও পাঁচজন। বন্ধ হয়ে যায় ভোটগ্রহণ। উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। যদিও ‘ভাড়াটে’ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বাঁচাতে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে আসরে নেমে পড়েন কমিশনের বিসেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে, কমিশনের দয়ায় কোচবিহারে পুলিশ সুপার পদে নিয়োগ পাওয়া দেবাশিস ধর ও সিআইএসএফের শীর্ষ আধিকারিকরা।
কোচবিহারের দিনহাটায় রাজ্যের শাসকদলের প্রার্থী উদয়ন গুহের উপরেও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। তুফানগঞ্জ সহ আরও কয়েকটি কেন্দ্রেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে বড় ধরনের অশান্তির খবর পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণবঙ্গে অবশ্য বেশ কয়েকটি অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে হাওড়া, ডোমজুড়, উত্তর হাওড়া ও বালিতে। ডোমজুড়ের তৃণমূল প্রার্থী কল্যাণ ঘোষ অভিযোগ করেছেন নান্না ডফরপুর ধর্মতলায় তৃণমূলের দুই পোলিং এজেন্টকে মেরে বের করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। হুগলির চুঁচড়ায় বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। চুঁচুড়ার হুগলি কলেজিয়েট স্কুল চত্বরে সংঘর্ষ বেঁধে যায় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে। দু’পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে নাবালকদের মারধরের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ। ভাঙড়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ সহ আরও বেশ কিছু জায়গায় অশান্তির খবর মিলেছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *