State

মমতার খাসতালুক ভবানীপুরে বাড়ি-বাড়ি ঘরে লিফলেট বিলি রিগিং করে জিততে চাইছেন মমতা, তোপ অমিতের

0
(0)

খবর লাইভ : ভোট চতুর্থীর আগের দিন কলকাতায় এসে বঙ্গের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ‘বিতর্কিত’ ভূমিকাকে আড়াল করার চেষ্টা চালালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সাধারণ জ্ঞান’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে খোঁচা দিয়ে পাল্টা বলেছেন, ‘ভোটের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকে না। নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে। আসলে রাজনৈতিক হতাশা থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাওয়ের মতো আজব কথা বলেছেন মমতা দিদি।’

দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে এসে শুক্রবার দুপুরে কলকাতার এক হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের মন্ত্রকের অধিনস্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আড়াল করার মরিয়া চেষ্টা চালান তিনি। আধা সেনা নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘এক সময়ে যিনি নিজেই ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানাতেন, আজ সেই তৃণমূল নেত্রী বলছেন সিআরপিএফ রিগিং করছে। স্বার্থ বদলের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ কীভাবে নিজেকে বদলায় তার জলজ্যান্ত উদাহরণ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমার রাজনৈতিক জীবনে এর আগে কোনও রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীকে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এমন মন্তব্য করতে দেখিনি।’

তৃণমূল সুপ্রিমোর আধা সেনা ঘেরাও মন্তব্যের পিছনে তঅঁর রাজনৈতিক হতাশা কাজ করছে বলেও দাবি করেন অমিত শাহ। তাঁর কথায়, ‘রাজ্যে প্রথম তিন দফায় যে ভোট হয়েছে, তাতে পরিস্কার বিজেপি ৬৩ থেকে ৬৮ আসনে জিতছে। বাকি দফাগুলিতেও তৃণমূলের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকবে বিজেপি। হেরে যাচ্ছেন বুঝতে পেরে হতাশ হয়ে পড়ছেন মমতা দিদি।  আর তাই এই ধরনের মন্তব্য করেছেন।’

তাঁর নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী কাজ করছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভিযোগ তুলেছেন তা খারিজ করে দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিছুটা কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘যার নূ্যনতম সাধাণ জ্ঞান রয়েছে, সে জানে ভোটের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকে না। নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে। মমতা দিদির যদি এটুকু সাধারণ জ্ঞান না থাকে তাহলে আমি কীইবা করতে পারি?’

কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাঠগড়ায় তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার ভোটে হিংসা ও আরাজকতা চাইছেন কিনা, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অমিত শাহ।  কিছুটা ব্যঙ্গের সুরে তিনি বলেন, ‘বাংলায় এবার ভোটে কম হিংসা হয়েছে বলেই কী দিদি হতাশ হয়ে পড়েছেন? উনি কি চাইছেন? শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নাকি হিংসাপূর্ণ নির্বাচন?  দিদির ভোটে জেতার একমাত্র উপায় ছিল হিংসা। এবারের ভোটে হিংসা না হওয়াতেই হতাশ হয়ে পড়েছেন মমতা দিদি।’

রাজ্যে পরবর্তী দফার ভোটে হিংসা কমাতে নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর হওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘পরবর্তী দফার ভোটে যাতে বিন্দুমাত্র হিংসা না ঘটতে পারে, তার জন্য কমিশনকে আরও কঠোর হতে হবে।’

ভোট রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে এসে রাজ্যে করোনা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে লকডাউন করার নির্দেশ দেওয়া হবে কিনা, সেই প্রশ্নের জবাবে অমিত বলেন, ‘রাজ্যে লকডাউন থেকে শুরু করে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন, কনটেনমেন্ট জোন চালু করার বিষয়টি গত ফেব্রুয়ারি মাসেই রাজ্য সরকারগুলির উপরে ছেড়ে দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। রাজ্য সরকারকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে শেষে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুরে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দলীয় প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষকে পাশে নিয়ে বেলতলা বস্তিতে গিয়ে বাড়ি-বাড়ি দলের প্রতিশ্রুতি পত্র বিলি করেন। ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী বড় ব্যবধানে জিতবে বলেও দাবি করেন অমিত শাহ। ভবানীপুরে হারবেন জেনে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে পালিয়ে গিয়েছেন বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। দুপুরে এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজও সারেন।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *