খবর লাইভ : নন্দীগ্রামে জনসংযোগে গিয়ে ‘দুর্ঘটনার’ মুখে পড়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা অধিকর্তা বিবেক সহায়ের পরে শুক্রবার সরিয়ে দেওয়া হল নিরাপত্তা আধিকারিক অশোক চক্রবর্তীকে। রাজ্যে চতুর্থ দফার ভোটের কয়েক ঘন্টা আগে এসপি মর্যাদার অশোকবাবুকে সরিয়ে দিয়ে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্বরাষ্ট্র দফতর। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঘটনার এক মাস বাদে কেন অশোক চক্রবর্তীর মতো দক্ষ আধিকারিকের ঘাড়ে কেন শাস্তির খড়গ নামিয়ে আনা হল, তা নিয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
রেলমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে চলছিলেন অশোকবাবু। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরেও রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (আরপিএফ) প্রাক্তন কমান্ড্যান্ট ও বিশ্বস্ত আধিকারিককে নিজের নিরাপত্তায় বহাল রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি থেকে রাজ্যে নিয়ে আসেন। এমনকী আরপিএফ থেকে অবসর নেওয়ার পরে অশোকবাবুকে এসপি পদমর্যাদা দিয়ে বিশেষ নিয়োগ করা হয়। মূলত মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষীদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার কাজ করতেন অশোকবাবু। মুখ্যমন্ত্রীর ২৪ ঘন্টার সঙ্গী ছিলেন। নন্দীগ্রামে নির্বাচনের সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা আধিকারিক অশোকবাবু ভোটারদের প্রভাবিত করেছিলেন বলে কমিশনে নালিশ ঠুকেছিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। একজন রাজনৈতিক দলবদলুর কথাকেই ‘অমৃত সমান’ মনে করে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা আধিকারিককে অপসারণের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে, চতুর্থ দফার ভোটের আগে হাওড়ার নয় আসনে শান্তিপূর্ণ ভোটের অছিলায় এক বিশেষ পুলিশ আধিকারিককে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। হাওড়ার পুলিশ কমিশনারকে সাহায্য করার জন্য বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছেন রাজ্যের কাউন্টার ইনটেলেজেন্সি ফোর্সের পুলিশ সুপার অজিত সিং যাদবকে। উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম ও হলদিয়াতেও অবাধ ভোটের জন্য নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী ও প্রবীণ ত্রিপাঠীকে বিশেষ পুলিশ আধিকারিকের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিল কমিশন। প্রবীণ ত্রিপাঠী সফল হলেও ‘ডাহাফেল’ করেছিলেন নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী।




