খবর লাইভ : ভোটের মুখে ফের আদালতে ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। এবার পাঁশকুড়ায় তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা তোলার বিজ্ঞপ্তিতে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের মতে, ‘এই বিজ্ঞপ্তি এক পাক্ষিক, দায়িত্বহীন, ভাবনাচিন্তাবিহীন’।
যদিও হাইকোর্টের রায় ঘোষণার আগেই নিম্ম আদালত সরকারি বিজ্ঞপ্তি গ্রহণ করে অভিযুক্তকে বেকসুর খালাসের রায় ঘোষণা করে দিয়েছে। তারপর হাইকোর্টে সেই রায় খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আদালত চত্বর থেকে কার্যত পালিয়ে যান অভিযুক্ত বিজেপি নেতা আনিসুর রহমান। তাকে ফের গ্রেফতারের তোড়জোড় শুরু করেছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত আনিসুর রহমান একসময়ে যুব তৃণমূলের পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সভাপতি ছিলেন। পরে দলবদল করে তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। এরপর গত বছর দুর্গাপুজোর নবমীর দিনে রাতে পাঁশকুড়ার মাইসোরায় পার্টি অফিসেই খুন হন তৃণমূল নেতা কুবরান শাহ। পার্টি অফিসে ঢুকে দুষ্কৃতীরা তাঁকে গুলি করে খুন বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্তে নেমে বিজেপি নেতা আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রায় এক বছর ধরে জেলে ছিলেন তিনি। সম্প্রতি আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় শাসকদল। তাই মামলা তোলার বিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকার। বিরোধী নেতার বিরুদ্ধে মামলা হঠাৎ করে তোলার ব্যাপারে সরকারের তত্পরতার কারণ স্পষ্ট নয়। তবে সূত্রের খবর, শাসক দলে থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর বিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন আনিসুর। শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর দলত্যাগী এই নেতাকে ফেরানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। সেকারণেই মামলা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু সরকারের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করেন নিহত তৃণমূল নেতা কুবরান শাহের এক আত্মীয়।




