খবর লাইভ : ভারতের অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশনেই প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৫০ বছর আগে দেশে জারি করা এক জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে এ আক্রমণ করেন তিনি। হতাশা ব্যক্ত করেন বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়েও। তবে একই সঙ্গে সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চান বলেও জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
গতকাল সোমবার অষ্টাদশ লোকসভায় সোমবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদি। তার মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেন একে একে। এর আগে গতকাল স্থানীয় সময় সকালে ১১টায় অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। শপথগ্রহণ তত্ত্বাবধান করেন প্রোটেম স্পিকার ভর্তৃহরি মহতাব। সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে প্রোটেম স্পিকার হিসেবে শপথ নেন তিনি। লোকসভায় সংসদ সদস্যদের
শপথগ্রহণ চলবে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত। ২ বা ৩ জুলাই লোকসভার বিতর্কে অংশ নিতে পারেন মোদি। অধিবেশন শুরুর আগের ভাষণে ইন্দিরা গান্ধীর আমলের কংগ্রেস সরকারকেও আক্রমণ করে মোদি বলেন, ‘৫০ বছর আগে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। সেটা দেশের অন্ধকার অধ্যায়। গণতন্ত্রের ওপর কালো দাগ। আর কখনো সেই আঁধার নেমে আসবে না এই দেশে।’ বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিরোধীরা আমাকে হতাশ করেছে। তবে আশা করছি, সংসদে তারা সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। মানুষ স্লোগান নয়, কাজ চায়।’ মোদির ভাষণের পর জাতীয় সংগীতের সঙ্গে লোকসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। প্রোটেম স্পিকার মোদিকে লোকসভার নেতা ঘোষণা করেন। ওয়েনাডের সংসদ সদস্য পদ থেকে রাহুল গান্ধীর ইস্তফাও গ্রহণ করেন তিনি। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রীর জবাব দিতে অবশ্য দেরি করেননি। মোদির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি ৫০ বছর আগের ঘটনা টেনে আনছেন। অথচ দশ বছর ধরে আপনি দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি করে রেখেছেন। দেশবাসী এই ঘটনা নিয়ে আপনার অভিমত শুনতে চায়। ৫০ বছর আগের কাসুন্দি না ঘেঁটে বরং পরীক্ষা কেলেঙ্কারি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ট্রেন দুর্ঘটনা, মণিপুর পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলুন।’ এর আগে সংবিধান রক্ষার শপথ নেন বিরোধীরা। পুরোনো সংসদ ভবনের প্রধান প্রবেশপথের সামনে, যেখানে গান্ধীজির মূর্তি ছিল, যা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই ফাঁকা জায়গায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সব শরিক জোটবদ্ধ হয়ে সংবিধান হাতে জড়ো হয়। কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, ডিএমকের টি আর বালু, কানিমোঝিসহ সব বিরোধী সংসদ সদস্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখান। তাদের হাতে ছিল ভারতের সংবিধান। এ সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা দিনের পর দিন সংবিধানের অসম্মান করে চলেছেন। এই আক্রমণ আমরা আর হতে দেব না। সংবিধান হাতে তাই আমরা শপথ নিতে এসেছি।’




