খবর লাইভ : প্যালেস্টাইনের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আর সেকারণেই নববর্ষের অনুষ্ঠান পালন থেকে নিজেদের বিরত থাকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার এক নির্দেশিকা জারি করে একথাই জানিয়েছেন পাকিস্তানের তদারকি সরকারের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক কাকর। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে কাকর বলেছেন, নববর্ষ উদযাপনে দেশবাসীকে সংযম ও নম্রতা প্রদর্শন করতে হবে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত গাজার বাসিন্দাদের সঙ্গে সংহতির প্রকাশের জন্য পাক সরকারের এই সিদ্ধান্ত। তবে আচমকা প্যালেস্টাইনের প্রতি পাকিস্তানের ‘সদয়’ হওয়ার বিষয়টি ভালো চোখে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক মহল। তাঁদের মতে, এমনিতেই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা তলানিতে। আর সেকারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে সেদেশের সরকার।
অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্যালেসস্টাইনের উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নববর্ষের উদযাপনের জন্য যেকোনও ধরনের অনুষ্ঠানের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে সরকারের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি ইজরায়েলি বাহিনীর তীব্র নিন্দা করে পাক প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, হিংসার সব সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত গাজায় কমপক্ষে ৯ হাজার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এবং গাজায় যে ভাবে নিরস্ত্র মানুষ, শিশু আর মহিলাদের হত্যা করা হয়েছে, তাতে পাকিস্তান এবং গোটা ইসলামিক দুনিয়া ক্ষুব্ধ। আর সেকারণেই প্যালেস্টাইনবাসীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতেই এমন সিদ্ধান্ত পাক সরকারের।
এদিকে গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২০ হাজারেরও বেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই মহিলা ও শিশু। শুধু তাই নয়, যুদ্ধের জেরে গাজার মোট বাসিন্দার প্রায় ৮৫ শতাংশই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ঘরবাড়ি ছেড়ে তাঁদের জায়গা হয়েছে আশ্রয় শিবিরে। ইজরায়েল বর্তমানে গাজায় স্থলপথে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে, আরও বহু গাজাবাসী ঘরছাড়া হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



