খবর লাইভ : পুলিশ সুপারের নির্দেশ অমান্য করেই জাঙ্গিপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় রমরমিয়ে চলছে জুয়া, সাট্টার ঠেক। পাশাপাশি চোলাই মদের কারবারও পিছিয়ে নেই। হুগলি জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিস সেনের নির্দেশ মতো পুলিশ চোলাই মদ, জুয়া, সাট্টার ঠেক বন্ধ করতে হানা দিলে সেই খবর আগেই পৌঁছে যাচ্ছে বেআইনি কাজে যুক্ত অসাধু ব্যক্তিদের কাছে। জাঙ্গিপাড়া থানার ডাক মাস্টার সুদীপ্ত দে-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
২০১৪ ব্যাচের আইপিএস কামনাশিস সেন বেআইনি কাজ বন্ধ করতে কতটা কঠোর ভূমিকা পালন করেন তা বার বার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে চোলাই মদ, জুয়া বা সাট্টার মতো সর্বনাশা কাজ বন্ধ করতে তিনি দু বার ভাবেন না। কিছুদিন আগেই খবর লাইভে জাঙ্গিপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চোলাই মদের কারবার, জুয়া ও সাট্টার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। পুলিশ সুপার এই সমস্ত বেআইনি কাজ বন্ধের নির্দেশ জাঙ্গিপাড়া থানার ওসিকে দেন। পুলিশ বেশ কিছু জায়গায় হানাও দেয়। কিন্তু হানা দেওয়ার আগেই সেই খবর পৌঁছে যায় ওই সকল বেআইনি কাজে জড়িতদের কাছে। দু-একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার মারফত সেই খবর পৌঁছে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন ডাক মাস্টারও। পুলিশ সুপারের নির্দেশ থাকা সত্বেও এখনও জাঙ্গিপাড়া এলাকায় বেশ রমরমিয়েই চলছে এই সমস্ত বেআইনি কাজ।
দিলাকাশের গির্জাতলা, বাঁশতলা এলাকায় দাপিয়ে চোলাইয়ের কারবার করছে ভরত মালিক, হাবুল, দীপঙ্কর, বিদ্যারা, খলিসানিতে খুঁড়িরা। এছাড়াও সাট্টার ঠেক এখনও রমরমিয়ে চলছে রহিমপুর, রাজবলহাট, রসপুর, জাঙ্গিপাড়া বাসস্ট্যান্ডে। জুয়ার ঠেক রাতে চলছে দিলাকাশ ও আঁটপুরের কোমরবাজারে। দিলাকাশ এলাকার এক ব্যক্তি বলেন, ‘পুলিশের কাজ বেআইনি কাজ বন্ধ করা। সেখানে পুলিশের একাংশকেই দেখছি বেআইনি কাজে জড়িতদের মদত দিচ্ছেন। সিভিক ভলেন্টিয়াররা এই অনৈতিক কাজ বেশি করছেন।’
এদিকে এখনও জাঙ্গিপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় জুয়া, সাট্টা, চোলাই মদের কারবার রমরমিয়ে চলায় স্থানীয় লোকজন মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছেন।
নবান্নের এক কর্তা বলেন, ‘বীরভূমের বগটুই কাণ্ডের পর আমরা অনেক সতর্ক হয়েছি। বেশ কিছু সিভিক ভলেন্টিয়ার ও পুলিশকর্মীকে বেআইনি কাজে যুক্ত থাকার কারণে গ্রেফতার করেছি। জাঙ্গিপাড়ার বিষয় নিয়েও আমরা ওয়াকিবহাল।’
সম্প্রতি জাঙ্গিপাড়ার লক্ষ্মণপুরে সাট্টার বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে এলাকার লোকজন সাট্টার ঠেকে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। তারপরও জাঙ্গিপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় দাপিয়ে চলছে এই সমস্ত মারণ ব্যাধি।
যাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি কাজকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেই ডাক মাস্টার সুদীপ্ত দে বলেন, ‘এই ধরনের কাজ কি শুধু জাঙ্গিপাড়া এলাকাতেই চলছে? অন্য জায়গাতেও চলছে তো। আমি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে চাই।’
এখন দেখার বিষয় পুলিশ কতটা কড়া হতে পারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে!
জাঙ্গিপাড়ার ওসির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও, তিনি ফোন ধরেননি।



