খবর লাইভ :অবশেষে “বিদ্যুৎ মুক্ত” বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্য পদ থেকে সরছেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন অধ্যাপক সঞ্জয় মল্লিক। জানা গিয়েছে, বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর উপাচার্যকালের মেয়াদ শেষ বুধবার-ই। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে, তাঁর জন্য কোনওরকম মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, উপাচার্য থাকাকালীন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী গত কয়েক বছর ধরে বারে বারে বিতর্কের শিরোনামে উঠে এসেছেন। কখনও নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সঙ্গে জমি বিবাদে নাম জড়িয়েছেন, কখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করেছেন। কখনও আবার তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়কে গৈরিকিকরণ করার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি, শান্তিনিকেতনে ইউনেস্কোর ফলক বিতর্কেও নাম উঠে এসেছে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর।
সেই আবহে বুধবারই বিশ্বভারতীতে উপাচার্য পদে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর কর্মজীবনের শেষ দিন। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে, মঙ্গলবার, তিনি চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। সেই চিঠির ভাষাতেই আপত্তি জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রলয় নায়েক। প্রলয় বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী। পাশাপাশি, তিনি বীরভূম জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি ও হুগলির একটি কলেজের অধ্যাপক।
প্রলয় নায়েকের বক্তব্য, বিশ্বভারতীর প্যাডে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা কুরুচিকর এবং অত্যন্ত অপমানজনক। শান্তিনিকেতন থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগে প্রলয় লিখেছেন, গত ৭ নভেম্বর বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাডে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কুরুচিকর, অপমানজনক এবং শ্লেষাত্মক মন্তব্য করেছেন। প্রলয়ের আরও দাবি, উপাচার্যের এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। বিশ্বভারতীর একজন প্রাক্তনী হিসাবেও তিনি মনে করেন, ওই ভাষায় মুখ্যমন্ত্রীকে সম্বোধন করায় তাঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) অপমান হয়েছে। বিষয়টি যে কোনও সময় বড়সড় অশান্তির কারণ হতে পারে বলেও অভিযোগে পুলিশকে জানিয়েছেন প্রলয়। সব শেষে পুলিশকে বিদ্যুতের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন।




