খবর লাইভ : মণিপুরে গত ৩ মাস ধরে চলতে থাকা জাতি দাঙ্গায় ইতিমধ্যেই প্রাণ গিয়েছে শতাধিক মানুষের। এই ইস্যুতে উত্তাল হয়েছে সংসদ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিবৃতি চেয়ে সংসদে বিক্ষোভ প্রতিবাদ জারি রেখেছে বিরোধীরা। ব্যাহত সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম। এই ইস্যুতেই সংসদে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কংগ্রেসের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গেকে চিঠি লিখলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর পাশাপাশি দীর্ঘ দিন পর মণিপুরে শর্তসাপেক্ষে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিল সরকার।
সংসদে শান্তিপূর্ণ আলোচনার আবেদন জানিয়ে মঙ্গলবার কংগ্রেসের দুই কক্ষের বিরোধী নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে ও অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে চিঠি লেখেন অমিত শাহ। তিনি জানান, “আপনারা আবেদন জানিয়েছেন মণিপুর নিয়ে সরকার বক্তব্য পেশ করুক সংসদে। আমি আপনাদের জানাচ্ছি, শুধু বক্তব্য নয় সরকার এই বিষয়ে সম্পূর্ণ আলোচনাতেও প্রস্তুত। আপনাদের মাধ্যমে সকল বিরোধী দলগুলির কাছে আমার আবেদন সংসদে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে আলোচনায় এগিয়ে আসুন। মণিপুর নিয়ে যত লম্বা আলোচনাই হোক না কেন তা করতে চাই। সরকার ভয় পায় না। যারা মণিপুর নিয়ে আলোচনা করতে চায় তারা আলোচনা করুক। আমাদের লুকনোর কিছু নেই। বিরোধীদের আমি বলতে চাই, মানুষ আপনাদের দেখছে। নির্বাচনে মানুষের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের ক্ষোভের কথা মাথায় রাখুন। আর মণিপুরের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে আলোচনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করুন।” এদিন সংসদেও এই বিষয়ে বক্তব্য পেশ করেন শাহ। অমিত শাহর ওই মন্তব্য নিয়ে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, আমরা আলোচনা চাই। কিন্তু তা হতে হবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে। কারণ প্রধানমন্ত্রী এর আগে সংসদের বাইরে মণিপুর নিয়ে মন্তব্য করেছেন। সংসদের মধ্যে কিছু বলেননি। আমরা চাই সংসদের দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বিবৃতি দিন। তা হলেই আমরা সংসদ শান্তিতে চলতে দেব।
এদিকে প্রায় ৩ মাস ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পর রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় শর্তসাপেক্ষে ইন্টারনেট ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে মণিপুর সরকার। তবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারে। তাছাড়াও মোবাইলের ডেটা ব্যবহার করা যাবে না সেরাজ্যে। মঙ্গলবার এই নির্দেশিকা জারি করে মণিপুর সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে ধীরে ধীরে গোটা রাজ্যেই ইন্টারনেট পরিষেবা ফের চালু করা হবে।




