খবর লাইভ : বাংলার দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে ঘোরানোর ভিডিও (এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি খবর লাইভ) নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল বনাম বিজেপির তরজা। শাসকদল বলছে, একটি স্থানীয় চুরির ঘটনাকে রাজনীতির রূপ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি।
অন্য দিকে, গেরুয়া শিবিরের দাবি, প্রথমে হাওড়ার পাঁচলা, তার পর মালদহের বামনগোলা— দুই জায়গার যে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে, তা থেকেই পরিষ্কার এ রাজ্যে মহিলাদের উপর কী ভাবে অত্যাচার হয়। বিজেপি নেতৃত্বের টুইটের পাশাপাশি এ নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর।
মালদহের ঘটনার নিন্দা করেছেন সিপিএমের পলিটবুরো সদস্য বৃন্দা কারাট। তবে তিনি কটাক্ষ করেন, যেখানে এই ঘটনাটি ঘটেছে সেটি বিজেপি সাংসদের লোকসভা এলাকা। যদিও কংগ্রেসের লোকসভার নেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর দাবি, মহিলাদের উপর হিংসার ঘটনায় দেশের প্রথম পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে একটি হল বাংলা। তিনি মালদহের ঘটনার নিন্দা করেছেন।
কী নিয়ে বিতর্ক?
মালদহে চুরির অভিযোগে দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে মারধর, জুতোপেটা করার অভিযোগ উঠেছে উন্মত্ত জনতার বিরুদ্ধে। ওই দুই মহিলার বিবস্ত্র ছবি এবং মারধরের ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তোলপাড় রাজ্য তথা দেশের রাজনীতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহের ওই এই দুই মহিলার বাড়ি মানিকচক এলাকায়। লেবু বিক্রি করতে বামনগোলা পাকুয়াহাটের গিয়েছিলেন তাঁরা। যে ভিডিও ছড়িয়েছে সেটি ১৮ জুলাইয়ের।
ওই দুই মহিলার আত্মীয়রা জানান, লেবু বিক্রি করতে গ্রামবাংলার বিভিন্ন প্রান্তে যান তাঁরা। সেদিনও গিয়েছিলেন। চুরির অভিযোগে তাঁদের মারধর করা হয়। ওই দুই মহিলাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে দাবি দুই নির্যাতিতার পরিবারের।
এই ঘটনায় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। তিনি টুইটে লেখেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে আতঙ্ক অব্যহত। মালদহে দুই আদিবাসী মহিলাকে নগ্ন করে নির্মম ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এই ঘটনার সময় পুলিশ ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়।’’ অমিতের দাবি, ঘটনাটি ১৯ জুলাই সকালের। এ নিয়ে টুইটে মমতার সরকারকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও।
রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেছেন, ‘‘যেই দুই মহিলা চোর ছিলেন, তাঁদের পাকড়াও করেন যাঁরা, তাঁরাও মহিলা পুলিশকর্মী। তাঁদের গ্রেফতার করার সময় ধস্তাধস্তি হয়। বেচারারা সবাই গরিব। ধস্তাধস্তিতে কাপড় সরে যায়।’’
তিনি আরও বলেন, কিন্তু এই ঘটনাকে রাজনীতির চশমায় কেন দেখা হচ্ছে? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সিভিক ভলান্টিয়াররা এগিয়ে যান। কিন্তু মহিলারা নিজের হাতে আইন তুলে নেন। এটাও তো ঠিক নয়।




