খবর লাইভ : পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার দায় নিয়ে শনিবার দুপুরে ভোট চলাকালীন রাজীব সিনহা ‘বল’ ঠেলেছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোর্টে। শনিবার সন্ধ্যায় ভোট শেষের পর দেখা গেল সেটি বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে তার দিকেই। কেন্দ্রের অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, রাজ্য নির্বাচন কমিশন সাহায্য করেনি বলেই বাহিনী যথা সময়ে আসতে পারেনি পশ্চিমবঙ্গে। সহযোগিতা পেলে ভোটের আগে ৮২৫ কোম্পানি বাহিনী হাজির হত বাংলায়।
পঞ্চায়েত ভোটে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। শনিবার পর্যন্ত ৬৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে এসে পৌঁছতে পেরেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর আসতে এত দেরি হল কেন? আমরা তো বাহিনী চেয়ে চিঠি দিয়েছিলাম ২২ জুন। তার পর মনেও করিয়েছিলাম বেশ কয়েক বার। তা সত্ত্বেও ৪৮৫ কোম্পানি বাহিনী দিতে জুলাই মাসের ৩ তারিখ হয়ে গেল! আমার মনে হয় আরও কিছু আগে বাহিনী এলে সুবিধা হত।’’ তবে একই সঙ্গে রাজীব এ-ও জানান, তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে এর জন্য দায়ী করছেন না। তিনি মনে করেন, ওঁদেরও নিশ্চয়ই কোনও অসুবিধা ছিল, তাই দেরি হয়েছে। রাজীবের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে একটি পাল্টা বিবৃতি জারি করা হয়। সন্ধ্যায় ভোট শেষ হওয়ার পর পাল্টা একটি বিবৃতি জারি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তাতে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী আসতে দেরি হয়েছে, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে যথাযথ সহযোগিতা না পাওয়ার কারণেই।
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দুর ‘জনগণের অভ্যুত্থান’ মন্তব্য, ‘কালীঘাটের ইট’ খুলে নেওয়ার দাওয়াই
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বলেছে, প্রথমত, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের জন্য দেরিতে অনুরোধ করেছে কমিশন। সাধারণত বাহিনীর জন্য ট্রেন এবং অন্যান্য ব্যবস্থা করতে সময় লাগে।
দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার জন্য তাদের কোথায় ট্রেন থেকে নামতে হবে বা কোথায় পৌঁছতে হবে তার একটা বিশদ তথ্য জানার দরকার হয়। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত সেই তথ্য রাজ্য নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জানায়নি। বদলে বাহিনীর কো অর্ডিনেটরদের বলে দেওয়া হয় এ ব্যাপারে জানতে হলে জেলাশাসকদের জিজ্ঞাসা করুন। যেটা করার জন্য অতিরিক্ত সময় লেগেছে।
তৃতীয়ত, কিছু বাহিনীর শনিবার সন্ধ্যাতেও পৌঁছনোর কথা বাংলায়। নোডাল অফিসার কমিশনকে বলেছিলেন, এই বাহিনীকে স্ট্রংরুমের পাহারার জন্য ব্যবহার করা হোক। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি কমিশন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বক্তব্য, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কিছু বাহিনীকে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করতে রাজি হয়নি কমিশন।




