খবর লাইভ : মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত সেই অর্পিতাকে এ বার বেআইনি নিয়োগের অন্যতম চক্রী বলে দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
তাঁর ফ্ল্যাটে খোঁজ মিলেছে টাকার পাহাড়ের। সঙ্গে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না আর বিদেশি মুদ্রার। মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত সেই অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে এ বার বেআইনি নিয়োগের অন্যতম চক্রী বলে দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুধু তা-ই নয়, শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার হওয়া অর্পিতার বাড়িই স্কুলে বেআইনি নিয়োগের আখড়া বা কেন্দ্রস্থল (এপিসেন্টার) ছিল বলে রবিবার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের (সিএমএম) আদালতে জানাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি।
টালিগঞ্জের ডায়মন্ড সিটি সাউথে অর্পিতার ফ্ল্যাট আদপে স্কুলে বেআইনি নিয়োগের ‘এপিসেন্টার’ (কেন্দ্রস্থল)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির অভিযোগ, অর্পিতার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে শিক্ষা দফতরের নিয়োগের বিভিন্ন নথি উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে এসএসসি, গ্রুপ-ডি ও নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগের নথি রয়েছে। ইডি-র প্রশ্ন, এই সব নথি সরকারি দফতরে থাকার কথা। তা ওই ফ্ল্যাটে এল কী করে?
‘মিনিস্টার ইন-চার্জ এডুকেশন’ লেখা বেশ কয়েকটি খালি খামও পাওয়া গিয়েছে অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ভাবে অনুমান, অনেক ক্ষেত্রে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে ওই খামে করে বেআইনি নিয়োগের সুপারিশপত্র পাঠানো হয়েছিল। পরে তা চলে আসে অর্পিতার ফ্ল্যাটে। ইডি সূত্রে দাবি, বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীদের পূর্ণ তালিকা এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত নানা নথিও অর্পিতার হেফাজত থেকে পাওয়া গিয়েছে।
তাঁর ফ্ল্যাটে খোঁজ মিলেছে টাকার পাহাড়ের। সঙ্গে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না আর বিদেশি মুদ্রার। মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত সেই অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে এ বার বেআইনি নিয়োগের অন্যতম চক্রী বলে দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুধু তা-ই নয়, শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার হওয়া অর্পিতার বাড়িই স্কুলে বেআইনি নিয়োগের আখড়া বা কেন্দ্রস্থল (এপিসেন্টার) ছিল বলে রবিবার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের (সিএমএম) আদালতে জানাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি।
রবিবার কলকাতা সিএমএম আদালতে অর্পিতাকে তুলে ইডি-র দাবি, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী (বর্তমানে শিল্পমন্ত্রী) পার্থের ‘ঘনিষ্ঠ’ এই মডেল-অভিনেত্রী যথেষ্ট ‘প্রভাবশালী’। স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) ও প্রাথমিক টেট-এ নিয়োগ-দুর্নীতির তিনি অন্যতম মূল চক্রী। টালিগঞ্জের ডায়মন্ড সিটি সাউথে অর্পিতার ফ্ল্যাট আদপে স্কুলে বেআইনি নিয়োগের ‘এপিসেন্টার’ (কেন্দ্রস্থল)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির অভিযোগ, অর্পিতার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে শিক্ষা দফতরের নিয়োগের বিভিন্ন নথি উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে এসএসসি, গ্রুপ-ডি ও নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগের নথি রয়েছে। ইডি-র প্রশ্ন, এই সব নথি সরকারি দফতরে থাকার কথা। তা ওই ফ্ল্যাটে এল কী করে?
‘মিনিস্টার ইন-চার্জ এডুকেশন’ লেখা বেশ কয়েকটি খালি খামও পাওয়া গিয়েছে অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ভাবে অনুমান, অনেক ক্ষেত্রে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে ওই খামে করে বেআইনি নিয়োগের সুপারিশপত্র পাঠানো হয়েছিল। পরে তা চলে আসে অর্পিতার ফ্ল্যাটে। ইডি সূত্রে দাবি, বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীদের পূর্ণ তালিকা এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত নানা নথিও অর্পিতার হেফাজত থেকে পাওয়া গিয়েছে।
অর্পিতার কাছ থেকে যে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গিয়েছে, তা নিয়ে আলাদা মামলা করার কথাও ভাবছে ইডি। কোথা থেকে তিনি এত বিদেশি মুদ্রা পেলেন, তা জানতে চান তদন্তকারীরা।
এই মামলায় ইডি-র তদন্তকারী অফিসার মিথিলেশ কুমার মিশ্র এ দিন আদালতে দাবি করেন, অভিযুক্ত অর্পিতা পার্থের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। টালিগঞ্জের করুণাময়ীতে অর্পিতার ডায়মন্ড পার্কের ফ্ল্যাটে নিয়মিত যাতায়াত ছিল মন্ত্রীর। ওই ফ্ল্যাট থেকেই উদ্ধার হয়েছে ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা। শনিবার ইডি জানিয়েছিল, প্রায় সাড়ে ২২ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু, রবিবার সকালে তদন্তকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, চূড়ান্ত গণনার পরে সেই অঙ্ক ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
পার্থের সঙ্গে অর্পিতার একটি নির্দিষ্ট মোবাইল ফোনে প্রায় প্রতিদিন কথাবার্তা হত বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। মন্ত্রীর বাড়ি থেকে অর্পিতার নামে বিভিন্ন সম্পত্তির দলিল ও সংস্থার নথি উদ্ধার হয়েছে বলেও তদন্ত রিপোর্টে অভিযোগ। তদন্তকারী অফিসারের দাবি, প্রাথমিক ভাবে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে অর্পিতার ফ্ল্যাট কার্যত বেআইনি নিয়োগের কার্যালয়ে পরিণত হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর কাছ থেকে একটি ছোট কালো ডায়েরি পাওয়া গিয়েছে। ওই ডায়েরির ৩০টি পাতায় থাকা বহু তথ্য দুর্নীতি-তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে বলেও ইডি-র দাবি। যে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তার দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।
ইডি-র আইনজীবীর বক্তব্য, ‘‘আলিবাবার বাক্সের মতো (অর্পিতার) আলমারি থেকে থরে থরে গয়না উদ্ধার হয়েছে। বৃহত্তর ষড়যন্ত্র খতিয়ে দেখা দরকার।’’
ইডি সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা যখন অর্পিতার বাড়িতে লাগাতার তল্লাশি চালায়, টাকা ছাড়াও ৫০ রকমের নথি-তথ্য হাতে আসে তদন্তকারীদের। এরমধ্যেই একটি কালো ডায়েরি ছিল বলে ইডি সূত্রে খবর। তার উপরে লেখা ছিল ‘ডিপার্টমেন্ট অব স্কুল এডুকেশন অ্যান্ড হায়ার এডুকেশন, গভর্মেন্ট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল’। এরপরই ডায়েরির পাতা উল্টোতে পরতে পরতে রহস্য ধরা পড়ে।
ইডি আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, কলকাতার বুকেই নামে বেনামে অসংখ্য ফ্ল্যাট রয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। বেলঘরিয়ায় সঙ্গী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের নামে ফ্ল্যাটের হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
♦ বীরভূমে রয়েছে ৭টি বাড়ি, ২০ বিঘে জমি।
♦ ইডি জানতে পেরেছে, শান্তিনিকেতনেও ৪ হাজার স্কোয়্যার ফিটের ফ্ল্যাট রয়েছে।
♦ তাহলে হিসাবটা ঠিক কত দাঁড়াচ্ছে? হিসাব কষতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
♦ ডায়মন্ড সিটিতে অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা।
♦ ৭৮ লক্ষ টাকার সোনার গয়না, ৫৪ লক্ষ টাকার বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার হয়েছে।
♦ ডায়মন্ড সিটিতে অর্পিতার মোট ৩ টি ফ্ল্যাট রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি টাকা।
♦ বেলঘরিয়াতেও অর্পিতার ২ টি ফ্ল্যাট রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা।
♦ এছাড়াও শহরতলিতে অর্পিতার আরও বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
♦ শহর ছাড়িয়ে জেলাতেও বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। শান্তিনিকেতনের জামবনি, ফুলডাঙা, প্রান্তিকে বেশ কয়েকটি বাগানবাড়ির হদিশ মিলেছে।
♦ কোপাই যাওয়ার পথেও রয়েছে আরও একটি বাড়ি।
♦ শান্তিনিকেতনে নতুন করে আরও একটি সম্পত্তির হদিশ মিলেছে।
♦ ইডি সূত্রে খবর, পার্থর বাড়ি থেকেও বেশ কিছু সম্পত্তির নথি পাওয়া গিয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, তিনটে ভুয়ো কোম্পানির ডিরেক্টর হিসাবে নাম রয়েছে অর্পিতার। তারও নথি মিলেছে।
♦ হাওড়া, ডোমজুড়, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অর্পিতা ও পার্থর নামে-বেনামে সম্পত্তি রয়েছে বলে ইডি আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন। যার আনুমানিক মূল্য ১০০ কোটির কাছাকাছি।
♦ জামবুনি, ফুলডাঙা, প্রান্তিক-সহ বিভিন্ন জায়গায় ৭টি বাড়ির হদিশ মিলেছে। বাড়িগুলি কেনা হয়েছে অর্পিতা মুখোপাধ্যায় ও মোনালিসা দাসের নামে। কোনও বাড়ির দামই এক কোটির কম নয়। ফলে সেখানেও কম করে ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি।
♦ বীরভূমের একটি আবাসনে রয়েছে চার হাজার স্কোয়্যার ফিটের একটি ফ্ল্যাটেরও হদিশ মিলেছে। যার আনুমানিক দাম পাঁচ কোটি।
♦ সোনাঝুরির পিছনে ২০ বিঘা জমি, যার আনুমানিক মূল্য ১০ কোটি।
♦ পিংলায় মন্ত্রীর স্ত্রীর নামে বিশাল স্কুল। জমি কেনা হয় ৪৫ কোটি টাকা নগদে।
তদন্তকারী সংস্থা বলছে, এখনও বহু সম্পত্তির হদিশ পাওয়া বাকি।




