খবর লাইভ : রাজ্য বিজেপির নেতা, বিধায়ক, সাংসদদের বাংলা বিভাজন নিয়ে মুখ খুলতে নিষেধ করলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। বৃহস্পতিবার কলকাতায় দলের বৈঠকে নাড্ডার স্পষ্ট নির্দেশ, বাংলা ভাগ নিয়ে একটি কথাও নয়। সামনে পঞ্চায়েত ভোট। তারপর লোকসভা ভোট। এখন থেকেই ওই দুই ভোটকে পাখির চোখ করে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
আরও পড়ুনঃ নিউটাউনের ফ্ল্যাটে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ সোনা, আরও বিপাকে ধৃত সায়গল
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গে খুবই ভালো ফল করেছিল বিজেপি। উত্তরবঙ্গে প্রায় সবকটি লোকসভা আসনই সেবার বিজেপি দখল করে। গত বছর বিধানসভা ভোটে অবশ্য বিজেপি লোকসভা ভোটের পরম্পরা ধরে রাখতে পারেনি। বিভিন্ন লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত অনেকগুলি বিধানসভা কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছে বিজেপি। তা সত্ত্বেও বিধানসভা ভোটের পর থেকেই উত্তরবঙ্গের একাধিক বিজেপি বিধায়ক এবং সাংসদ পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবি করে আসছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লা, সাংসদ জয়ন্ত রায়ের মতো অনেকেরই বক্তব্য, স্বাধীনতার পর থেকেই উত্তরবঙ্গ নানা বঞ্চনার শিকার। তাই পৃথক উত্তরবঙ্গ চাই।
এরই মধ্যে দিন কয়েক আগেই কেএলও প্রধান জীবন সিং তাঁর গোপন আস্তানা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিয়ে ফের কোচ-কামতাপুর পৃথক রাজ্যের দাবি তোলেন এক ভিডিয়ো বার্তায়। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে উত্তরবঙ্গে পা না দিতেও পরামর্শ দেন। দুদিন আগেই অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী আলিপুরদুয়ারে দলীয় সভায় নাম না করে জীবনকে পালটা চ্যালেঞ্জ ছোড়েন। তিনি বলেন, রক্ত দেব, কিন্তু বাংলা ভাগ হতে দেব না। আমাকে বন্দুক দিয়ে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। সব বন্দুক ভোঁতা করে দেব। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিজেপি বাংলা বিভাজনে মদত দিচ্ছে, ওরা বঙ্গভঙ্গের চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।
এদিন দলীয় বৈঠকে নাড্ডা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বাংলা ভাগ নিয়ে কোনও বিতর্কে যাওয়া চলবে না। তা নিয়ে যেন অযথা জলঘোলা করা না হয়। তিনি জানিয়ে দেন, বিজেপি বাংলা ভাগের পক্ষে নয়। উত্তরবঙ্গের মানুষের অনেক অভিযোগ থাকতে পারে। কিন্তু তার জন্য পৃথক রাজ্যের দাবি তোলা ঠিক নয়।



