Special News Special Reports State

বাংলায় প্রচারের পাল্টা রণকৌশল তৈরি অমিত শাহ-শমীক ভট্টাচার্যের 

0
(0)

খবর লাইভ : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন কিংবা ২০২৯-এর লোকসভা ভোট নয়, বিজেপি বাংলায় ফের জমি পেতে চায় তার আগেই। আর তাই তৃণমূলের প্রতিটি প্রচার-অস্ত্রের পাল্টা দিতে চায় সুসংগঠিত বার্তা ও প্রচারের মাধ্যমে। দিল্লিতে সোমবারের বৈঠক সেই প্রস্তুতিরই শুরু বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।

দিল্লিতে মুখোমুখি বৈঠকের পরে রাত ১০টার সময় আবার ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। বৈঠকে জেলা স্তরের সভাপতিদের সঙ্গেও পৃথক আলোচনা হয়। সেখানে এসআইআর প্রচারের মোকাবিলায় কী বার্তা দেওয়া হবে, কীভাবে প্রচার হবে, তার রূপরেখা তৈরি হয়।

এই ধারাবাহিক আলোচনার পরেই আজ মঙ্গলবার সকালে ফের অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদারসহ রাজ্য নেতৃত্ব। সেখানে আগের রাতের বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের এসআইআর নিয়ে প্রচার ও বাঙালি জাতিসত্তা নিয়ে আক্রমণের জবাবে পাল্টা রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে দিল্লিতে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংসদ ভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা, সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ, বাংলার কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, মঙ্গল পাণ্ডে, সতীশ ধুন্দ, আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী।

বাংলায় বাঙালি পরিচয় ও বহিরাগত ইস্যুতে রণনীতি

বৈঠকে অমিত শাহ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, বিজেপি কখনও বাংলা-বিরোধী নয়, বরং তৃণমূলের প্রচার চালানো ‘বহিরাগত’ তত্ত্বকে আবার মাথাচাড়া দিতে দেওয়া যাবে না। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, ভোটার তালিকা সংশোধন ও বাংলার সংস্কৃতির প্রশ্নে তৃণমূল যেভাবে আবেগের ওপর ভর করে প্রচার চালাচ্ছে, তার কৌশলগত জবাব দিতে হবে।

বৈঠকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব রাজ্য স্তরের সাংগঠনিক দুর্বলতার দিকেও আঙুল তুলেছেন। বিশেষ করে, যেসব লোকসভা কেন্দ্রে অল্প ভোটের ব্যবধানে বিজেপি হেরেছে, সেখানে বুথ কমিটি গঠনের অগ্রগতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন শাহ। দ্রুত কমিটি গঠনের কাজ শেষ করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

পাল্টা প্রচারে তিরঙ্গা যাত্রা এবং সিএএ হাতিয়ার

তৃণমূল যখন ‘এসআই আর’ প্রচারের মাধ্যমে বিজেপিকে বহিরাগত হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, সেই সময় পাল্টা প্রচারে নামতে চলেছে বঙ্গ বিজেপি। অমিত শাহের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিজেপি। লক্ষ্য, জাতীয়তাবাদের আবেগকে ব্যবহার করে তৃণমূলের আঞ্চলিক ইস্যুকে মোকাবিলা করা।

এছাড়াও বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রসঙ্গ। মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটারদের কাছে টানতে সিএএ হেল্পডেস্ক ও ক্যাম্প গঠনের বিষয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কড়া নজর দিতে বলেছে। এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি শান্তনু ঠাকুরের সক্রিয়তাও বৈঠকে উল্লেখযোগ্য ছিল।

 

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *