খবর লাইভ : এরাজ্যে বাংলাদেশি মডেল শান্তা পালকে অবৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে নৈহাটির সৌমিক দত্ত নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ।
জানা গিয়েছে, শান্তা পাল দীর্ঘদিন ভারতে বসবাসের জন্য ভুয়ো আধার, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড ও ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করে ব্যবহার করছিলেন। এগুলোর উৎসের তদন্তে নৈহাটির ওই যুবকের ভূমিকা চিহ্নিত হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয় ।
তল্লাশি চলাকালীন শান্তা পালের কলকাতা এবং বর্ধমানের ঠিকানায় ইস্যু করা একাধিক ভুয়ো আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড এবং ভারতীয় পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি তার নামে বিভিন্ন বাংলাদেশি পাসপোর্টও পাওয়া গিয়েছে ।
পুলিশ ধারণা করছে এসব জাল নথি তৈরি করার পেছনে শুধুমাত্র এক ব্যক্তি যুক্ত ছিল না। কোনও সংঘবদ্ধ চক্রের সহযোগিতাও থাকতে পারে। তাই এই ঘটনায় এর চেয়েও বড় কোনও জালিয়াতি চক্রের যোগসূত্র আছে কিনা তাও তদন্ত করা হচ্ছে ।
প্রসঙ্গত, শান্তা পালের ভারতীয় ভিসা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে শেষ হওয়ায় তিনি বৈধভাবে ভারতে থাকতে পারতেন না। যদিও তার বৈধ ভিসা নেই, তবুও দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় তিনি বসবাস করেন এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভ্রমণ করেন। যার প্রমাণ তার ভ্রমণ ব্লগ ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে পাওয়া গিয়েছে ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতে আসার পর পর্যটন ব্যবসা চালাতেন তিনি এবং পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য ও ভিডিও প্রচার করতেন । শান্তা পালকে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা হেফাজতে নিয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। তার স্বামী ও পরিচয়পত্র সরবরাহের যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তদন্ত শুরু হয়েছে। আইডি তৈরির উৎস ও জালিয়াতির কারিগরদের চিহ্নিত করা প্রাথমিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিক ও মডেল শান্তা পালকে কেন্দ্র করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে কলকাতা পুলিশের তদন্তে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তার স্থায়ী বাসস্থান বাংলাদেশের বরিশালে। তবে গত কয়েক বছর ধরে তিনি যাদবপুরের বিক্রমগড় এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৩ সাল থেকে ওই বাড়িতে তিনি নিয়মিত বসবাস করছেন। শুধু তাই নয়, ভারতে আসার আগে শান্তা বাংলাদেশে দু’টি প্রতিষ্ঠানে মডেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং স্থানীয় সিনেমাতেও কাজ করেছেন বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন।
২০১৯ সালের এক সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সূত্র ধরেই সম্ভবত বিনোদন জগতে প্রবেশ করেন শান্তা। ভারতে এসে তিনি দক্ষিণী, বিশেষত তেলুগু সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। কীভাবে ওই সুযোগ পেয়েছিলেন এবং সেখানে কোনও চক্র বা যোগাযোগ কাজ করেছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তদন্ত আরও বলছে, কলকাতায় এসে তিনি পর্যটন সংক্রান্ত যে ব্যবসা শুরু করেন, তাতে শহরে নিজের সংস্থার মাধ্যমে গাড়ি ভাড়া দিতেন এবং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের নিয়ে কলকাতা সহ আশপাশের এলাকা ঘোরাতেন। এই ব্যবসার আড়ালে আরও কিছু বেআইনি কর্মকাণ্ড চলছিল কিনা, সে দিকেও নজর রয়েছে তদন্তকারীদের।




