খবর লাইভ : মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বেআইনি ভাবে দখল করে বসা দোকানদারদের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছিল পুলিশ এবং পুরসভা। সোমবার রাতেও অভিযান চালানো হয়। বেহালা থেকে নিউ টাউন— প্রায় সর্বত্রই বেআইনি ভাবে বসে থাকা দোকানগুলি দখল সরাচ্ছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত হয়েছে অনেক সামগ্রীও। বেআইনি দোকান ভাঙতে আনা হয় বুলডোজারও। সোমবার নবান্ন সভাঘরে বিভিন্ন পুরসভার চেয়ারম্যান, পুরনিগমগুলির মেয়র এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের বৈঠকে রাজ্যের পুর পরিষেবা নিয়ে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেন তিনি। রাস্তা দখল করে অস্থায়ী দোকান নিয়ে সরব হন মমতা। এ নিয়ে মমতার ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় মন্ত্রী-বিধায়কদেরও। তার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই পুলিশকে ‘অ্যাকশন মোড’-এ দেখা গিয়েছিল। গড়িয়াহাট, এসএসকেএম হাসপাতাল সংলগ্ন ফুটপাথ দখল করে থাকা দোকানিদের সরে যেতে বলে পুলিশ। অভিযান চালানো হয় বিধাননগর পুরসভা চত্বরেও। বিধাননগর পুরসভার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং সেক্টর ফাইভে বুলডোজ়ার দিয়ে একাধিক দোকানের কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়।
বুধবারও সেই একই ছবি। কলকাতার বেশ কিছু এলাকার ফুটপাথের দোকান সরাতে অভিযান চালায় পুলিশ। বেহালা, রাজাবাজার, ইএম বাইপাস, শিয়ালদহ স্টেশনের কাছে এনআরএস হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাতেও অভিযান চলে। এ ছাড়াও আনন্দপুর এলাকার খালের ধারে রাস্তা দখল করে থাকা দোকানও সরিয়ে দেওয়া হয়। বেহালা এলাকায় দখলদারি সরাতে ব্যবহার করা হয়েছে বুলডোজ়ার। প্রগতি ময়দান থানা এলাকায় সোমবার রাতেও অভিযান চালানো হয়।
বুধবার যাদের দোকান ফুটপাথ বা রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হল, তাঁদের মধ্যে ক্ষোভের ছবিও দেখা গিয়েছে। কেউ কেউ আবার পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’র অভিযোগ তুলছেন। অধিকাংশ হকারের বক্তব্য, আমরা এখানে অনেকেই ৩০ বছর ধরে দোকান চালাচ্ছি। প্রায় সকলের কাছেই পুরসভার হকার কার্ড রয়েছে। কিন্তু আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই সকালে পুলিশ এসে আমাদের তুলে দিল। অন্তত কিছুটা সময় দেওয়া উচিত ছিল। বেআইনি দখল নিয়ে বুধবার কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েল বলেন, অভিযান চলছে। এর পরেও চলবে। যেখানে যেখানে ফুটপাথে বেআইনি ভাবে হকারেরা বসে আছেন, তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হবে।
আলিপুরের অবস্থা আরও খারাপ। আলিপুর চিড়িয়াখানার আশপাশে রাস্তার উপর দেড়শোরও বেশি দোকান রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পরে এই হকারদের সরে যাওয়ার জন্য বারবারই জানিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু তাতেও ফুটপাত খালি না হওয়ায়, বুধবার সকালে কলকাতা পুরসভার পে লোডার এনে একের পর এক ঝুপড়ি দোকান ভেঙে ফেলা হয়। হকারদের জিনিসপত্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।শহরের একাংশ বাসিন্দা যেমন হকার উচ্ছেদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাচ্ছেন তেমনই রাতারাতি বেশ কিছু মানুষের রুটিরুজি হারানো নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। কারণ, যাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তাদের সকলেই অল্প কিছুদিন দোকান করে বসে রয়েছেন এমনটা নয়। এদের মধ্যে অনেকেই প্রায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ফুটপাতে দোকান করে রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার ফের নবান্নে হকার উচ্ছেদ নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা, বিধাননগর-সহ পুর নিগম ও পুরসভার চেয়ারম্যান, সমস্ত জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা শাসকদের ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। কলকাতা, হাওড়া ও বিধাননগর কমিশনারেটের অধীনে সমস্ত থানার ওসি, আইসিদেরও সশরীরে নবান্নের বৈঠকে থাকতে হবে।




