খবর লাইভ : আধার নম্বর এখন প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ১২ ডিজিটের নম্বর। যে নম্বরটি না থাকলে একদিকে যেমন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পেতে সমস্যা হয়, ঠিক সেই রকমই আবার অন্যান্য বিভিন্ন পরিষেবার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়। আর এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নথির ক্ষেত্রেই এখন সংশয় তৈরি হয়েছে। সংশয় তৈরি হয়েছে মূলত বেশ কিছু ব্যক্তিদের আধার কার্ড বা আধার নম্বর বাতিল করার কারণে।
লোকসভা ভোটের আগে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান এবং নদীয়ার বেশ কিছু বাসিন্দাদের আধার কার্ড বাতিল হওয়ার খবর সামনে এসেছিল। যদিও পরবর্তীতে সেই সকল আধার কার্ড পুনরায় সক্রিয় করে দেওয়া হয় এবং ইউআইডিএআই জানিয়ে দেয়, কারো আধার নম্বর বাতিল করা হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে এই মামলা হাইকোর্ট পর্যন্ত পৌঁছায়।
কলকাতা হাইকোর্টে আধার বাতিল সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা পৌঁছানোর পর কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রের কাছে হলফনামা তলব করেন। গত সোমবার সেই তলবের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের তরফ থেকে উত্তর দেওয়া হয়েছে এবং সেই উত্তরে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কাদের কাদের আধার কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি এটাও জানানো হয়েছে কেন বাতিল করা হচ্ছে।
কেন্দ্রের তরফ থেকে স্পষ্টভাবেই জানানো হয়েছে, যে সকল বিদেশি নাগরিকরা ভারতে এসে থাকার জন্য পর্যাপ্ত নথি দিতে পারছেন না তাদের আধার কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। মূলত দেশের নিরাপত্তার খাতিরে কেন্দ্রের তরফ থেকে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যে সকল বিদেশি নাগরিকরা ভারতের থাকার পর্যাপ্ত নথি দেখাতে পারেননি তাদের পুনরায় তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়াও জাল নথি বানিয়ে যারা আধার কার্ড তৈরি করেছেন এবং ভারতে থাকার জন্য উল্টো পথ বেছে নিয়েছেন তাদেরও খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করছে।
কলকাতা হাইকোর্টকে জানানো কেন্দ্রের এমন উত্তরের পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট কাদের আধার কার্ড বাতিল হচ্ছে। এক্ষেত্রে এই তালিকায় যদি কেউ থেকে থাকেন তাহলে তার আধার কার্ড বাতিল হবে। আর যদি কেউ না থাকেন অর্থাৎ তিনি সত্যিই ভারতীয় নাগরিক হন তাহলে তার দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। সুতরাং আদালতকে কেন্দ্রের জানানো উত্তর অনেকের বিভিন্ন প্রশ্নের সমাধান করে দেবে।




