খবর লাইভ : বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নিয়ে তুমুল শোরগোল সর্বদিকে। পূর্বে কিছু মাস আগে হওয়া ফুড এসআই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়েও উঠেছিল নানান কথা। এবারে পরীক্ষা নিয়ে চলছে জোর টানা পোড়েন। এই পরিস্থিতিতেই কড়া সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। কোটি কোটি টাকা থাকলেও সেই জালিয়াতি থেকে মুক্তি পাবেন না জালিয়াতকারী। কি পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র?
প্রসঙ্গত বেশ কয়েকদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে পরীক্ষার ফলাফল। তারপরেই তুমুল শোরগোল ওঠে সর্বদিকে। অভিযোগ ওঠে নিট পরীক্ষার ফলাফলে কারচুপি নিয়ে। কারণ লক্ষ্য করা যায় যারা সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই একই প্রতিষ্ঠানের। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, সময়ের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র না আসার কারণে তাদের গ্রেস মার্কস দেওয়া হয়। যার কারণেই এই ফলাফল। তবে এই দেখে অন্যান্য পরীক্ষার্থীরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করেন পরীক্ষা পদ্ধতির স্বচ্ছতার অভাব প্রসঙ্গে।
অপরদিকে এই পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি তরফে একদিনের মধ্যেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ইউজিসি নেট পরীক্ষা। চুলচেরা তদন্তে নেমে পড়েছে সিবিআই। এদিকে স্থগিত রাখা হয়েছে জয়েন্ট পরীক্ষা। আর এইসব পরিস্থিতির মাঝেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নিয়ে কড়া আইন ঘোষণা করেন কেন্দ্র। মূলত প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতেই এই বিশেষ আইনের ব্যবস্থা কেন্দ্রের। কি সেই আইন?
প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে কেন্দ্র তরফে ২০২৪-এ পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট কার্যকর করার ঘোষণা করেছে। যে আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে গিয়ে ধরা পড়লে পাবেন কড়া শাস্তি। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হতে পারে জামিন অযোগ্য ধারায়। এর ফলে এই ভয়ংকর কাজে দোষী প্রমাণিত হলে সেই ব্যক্তির ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা সহ সর্বোচ্চ ৫ এবং সর্বনিম্ন ৩ বছরের জেল হতে পারে। এছাড়াও কোনো সংস্থা যদি এই জালিয়াতি সম্পর্কে জেনেও কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে এড়িয়ে যায় তাহলে সেই সংস্থাকেও দিতে হতে পারে ১ কোটি টাকা জরিমানা।
আইন থেকে ছাড় পাবেন না কোনো উচ্চপদস্থ আধিকারিক বা আয়োজক সংস্থা। আইন অনুসারে কোনো উচ্চপদস্থ অফিসার যদি এই জালিয়াতির সাথে যুক্ত থাকে তাহলে তিনিও এই শাস্তির অংশীদার। তাকেও দিতে হতে পারে ১ কোটি টাকা জরিমানা সহ সর্বনিম্ন ৩ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল। আয়োজক সংস্থার কেউ এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে যুক্ত থাকলে এবং ধরা পড়লে তিনিও পাবেন এই কড়া শাস্তি। দিতে হতে পারে ১ কোটি টাকা জরিমানা সাথে সাজা হতে পারে সর্বনিম্ন ৩ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের। যা থেকে কোটি কোটি টাকা দিয়েও ছাড় পাওয়া যাবে না।




