Special News Special Reports State

মিথ্যা মামলায় খবর লাইভের সম্পাদক পীযূষ চক্রবর্তীকে ফাঁসানোর চেষ্টা

0
(0)

খবর লাইভ : ফের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো শুরু খবর লাইভের সম্পাদক পীযূষ চক্রবর্তীকে। পীযূষ ও তাঁর দাদা এবং ছোট কাকার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করল প্রতিবেশী এক ঠকবাজ। রাজু চক্রবর্তী নামে ওই ঠকবাজ এলাকায় প্রতারক হিসেবেই পরিচিত। জীবনে কোনদিনও সংবাদমাধ্যমে কাজ না করলেও পীযূষের প্রতিবেশী হওয়ার সুযোগ নিয়ে সে বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে সংবাদমাধ্যমের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিত। শুধু তাই নয়, নিজের একটি মোটর বাইকের সামনে প্রেস স্টিকার লাগানো সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করত। নিজে প্রতারক হলেও কিছু লোকের মদতে পীযূষ ও তাঁর পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে এই রাজুর স্ত্রী টুম্পা চক্রবর্তী। গত ১৬ মার্চ টুম্পা চক্রবর্তী জাঙ্গিপাড়া থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে পীযূষ, তাঁর দাদা মলয় ও কাকা মোহনের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৩ জানুয়ারি বিকাল ৫টা নাগাদ পীযূষ, তাঁর দাদা ও কাকা রাজুর বাড়িতে হানা দেয়। রাজুকে ভয় দেখিয়ে তার বাড়ি লিখিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ওই তিনজন। কাগজে সই না করলে একটি হাতুড়ি দিয়ে রাজুর মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত হয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, রাজুর স্ত্রীর কাছে থাকা একটি গলার আট ভরির সোনার হার নাকি ছিনতাই করা হয়। সঙ্গে থাকা কানের ও হাতের বালাও নাকি ছিনতাই করা হয়। অভিযোগে এও বলা হয়, ওই তিনজন রাজুর স্ত্রীকে উলঙ্গ করে তাকে শ্লীলতাহানিও নাকি করেন। পীযূষ চক্রবর্তী নাকি জমি মাফিয়া। তিনি একটি নামকরা সংবাদ মাধ্যমের নাম ভাঙিয়ে নাকি চলেন!

পুলিশের কাছে কেউ মিথ্যে মামলা করলে অভিযোগ চালু হওয়ার আগে পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করে। তারপরই অভিযোগ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এক্ষেত্রে অবশ্য অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পীযূষ ও তাঁর দুই আত্মীয়ের বিরুদ্ধে চুরি, তোলাবাজি সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করে। অথচ যেদিন ঘটনা ঘটেছিল বলে ওই মহিলা অভিযোগ করছেন, সেদিন পীযূষ বা তাঁর দাদা আদৌ বাড়িতে ছিলেন? তথ্য অবশ্য বলছে, তাঁরা যেখানে ছিলেন সেই জায়গাটি ক্যামেরা আবদ্ধ ছিল। ফলে পীযূষ বা তাঁর দাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ যে সম্পূর্ণ মিথ্যা তা কি পুলিশ একবারের জন্যও ভেবেছে? রাজু চক্রবর্তী আদৌ কি সেদিন ঘটনাস্থলে ছিল? পুলিশ যদি রাজুর মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন দেখে তবে তারা নিশ্চিত হয়ে যাবে, সেদিন ওই সময় সে কোথায় ছিল। কাউকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করা হলে সে কি আদৌ বাঁচে? বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে তার মাথাতে যে আঘাত থাকে তা কি রাজুর রয়েছে? ঘটনা ২৩ জানুয়ারি যদি হয় তবে তারপর থেকে এতদিন কেন অভিযোগ করা হয়নি? বা আঘাত যদি লেগে থাকে তাহলে সেই সময় নিকটবর্তী হাসপাতালে কেন রাজু যায়নি? পুলিশের মনে কি আদৌ এই প্রশ্নগুলো জেগেছে? পীযূষ জমি মাফিয়া যদি হয়ে থাকে তবে তাঁর বিরুদ্ধে একটাও কি কোনও প্রমাণ আছে?
১৮ বছর সাংবাদিকতা করলেও যে ছেলেটি নিজের গাড়িতে প্রেসের স্টিকার পর্যন্ত ব্যবহার করেন না তিনি কি না অন্য হাউসের নাম ভাঙাবেন? যে মিডিয়া হাউজের কথা ওই মহিলা বলেছেন পীযূষ অবশ্য একসময় ওই প্রতিষ্ঠানের অধীনে একটি সংবাদপত্রে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
এবিষয়ে পীযূষ বলেন, ‘দীর্ঘ ১৮ বছর কাজ করছি, সংবাদ মাধ্যমে, এভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে ভাবতে পারিনি। ওইদিন আমি বা আমার দাদা যে রাজুদের বাড়িতে যাইনি, তার প্রমাণ আছে। তাছাড়া রাজু যে ওইদিন অন্য একটি জায়গায় ছিল তার মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন দেখলেই বোঝা যাবে। পুলিশের উচিত সঠিকভাবে তদন্ত করা। আমি কে বা কেমন মানুষ তা পুলিশের শীর্ষকর্তারাও জানেন। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করলে আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো। তবে আশা করি পুলিশ তদন্ত করে সঠিক তথ্যই আদালতে দেবে।’ এদিকে পুলিশ আবার ৪১ নোটিশ পাঠিয়েছে অভিযোগের দেড় মাস পরে। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে ১৬ মার্চ এবং ৪১ নোটিশ পাঠানো হয়েছে ৩ জুন।
বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই খবর লাইভের সম্পাদক পীযূষ চক্রবর্তী লড়াই চালাচ্ছেন। জাঙ্গিপাড়া থানার বিরুদ্ধেও কিছু খবর করেছেন। তারই ফলস্বরূপ এই মিথ্যা মামলা কিনা তাও খতিয়ে দেখাহোক।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *