খবর লাইভ : মাস চারেক আগে বেআইনি মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে হুগলির বলাগড়। স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে জেলা পরিষদের এক নেত্রীর মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী সরাসরি মাটি মাফিয়াদের সঙ্গে ওই তৃণমূল নেত্রীর যোগ রয়েছে বলে প্রকাশ্যে দাবি করেন। যা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে চোরাস্রোত বয়ে যায়। তারপর থেকে হুগলি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সরকারি অনুমতি ছাড়া কেউ মাটি কাটলে বা কেউ কিনলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন। তারপর থেকে বেশ কয়েক জায়গায় বেআইনি মাটি কাটার খবর পেয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতেও দেখা গিয়েছে। আবার কখনও কখনও মাটি মাফিয়ারা অন্যত্র বেআইনি মাটি কেটে পুলিশের নজর এড়িয়ে সেই মাটি অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে চড়া দামে বিক্রি করেছে। এতে সরকারের বিপুল টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
এমনই একটি অভিযোগ সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দফতর, হুগলি জেলা প্রশাসনের কাছে জমা পড়েছে। কয়েকজন বিশিষ্ট মানুষ প্রশাসনকে জানিয়েছেন, হুগলির চণ্ডীতলা থানার আউশবালির কাছে একটি ঘেরা জায়গায় বেআইনিভাবে মাটি ফেলা হচ্ছে। বেআইনি মাটির গাড়ি থেকে মাটি পড়ে রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে। যে সংস্থাটি মাটি কিনছে তারা সরকারি কোনওরকম নিয়ম না মেনেই এই বেআইনি কাজ করছে। যে ব্যক্তি মাটি ফেলছেন তিনিও কোনও বৈধ খাদান থেকে মাটি কিনছেন কিনা সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনিও কোনওরকম সরকারি নিয়ম মানছেন না বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেন তাঁরা।
এরপরই অনুসন্ধান চালায় প্রশাসন। তদন্ত করে প্রশাসন জানতে পারে, কোনওরকম সরকারি নিয়ম মানেনি যে সংস্থায় মাটি ফেলা হচ্ছে তারা। পাশাপাশি যে ব্যক্তি মাটি বিক্রি করছেন তিনিও কোনওরকম নিয়ম মানেননি। নবান্নের এক কর্তা বলেন, ‘যে ব্যক্তি মাটি বিক্রি করছেন তাঁর বিরুদ্ধে অতীতেও অভিযোগ জমা পড়েছে পুলিশের কাছে। চণ্ডীতলা ও জাঙ্গিপাড়া থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, গ্রেফতারও হয়েছেন। তারপরেও তিনি শোধরাননি। বেশ কয়েক বার ওই ব্যক্তির বেআইনি খাদান পুলিশ বন্ধ করে। এবার ওই ব্যক্তি ও যে সংস্থায় মাটি পড়ছিল তাদের উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে।’
চণ্ডীতলা থানার এক পুলিশ অফিসার বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে বেআইনি মাটি কাটার কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেলেই আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।’




