খবর লাইভ : ভোট প্রচারে বেরিয়ে রক্তাক্ত বিজেপির মণ্ডল সভাপতি৷ আহত হয়েছেন বেশ কিছু বিজেপি কর্মীও। এই ঘটনায় তৃণমূলকেই কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপি। শনিবার দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের কসবা বিধানসভা এলাকার আনন্দপুরে ঘটনাটি ঘটে৷ শনিবার রাতে বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি সরস্বতী সরকার কয়েক জন বিজেপি কর্মীকে নিয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন৷ তাঁরা যখন পূর্বপাড়ায় দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরীর সমর্থনে পোস্টার লাগাচ্ছিলেন, তখন আচমকা তাঁদের ওপর চড়াও হন কয়েক জন দুষ্কৃতী। অভিযোগ, এই ঘটনায় মণ্ডল সভাপতি-সহ তিন জন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন। সরস্বতী সরকারের মাথায় চপার দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়৷ তাঁর মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত বেরতে থাকে৷ রাতেই জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য ও প্রার্থী দেবশ্রীর কাছে খবর যায়। আহত বিজেপি কর্মীদের তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানে শুশ্রূষা করার পর রবিবার ভোরে আনন্দপুর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তা নিতে চায়নি৷ শেষে চাপ দেওয়া হলে অভিযোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ স্বস্তি নেই বাংলার, রবিবারের দুপুরে দক্ষিণবঙ্গে লু সতর্কতা!
বিজেপির অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি আনন্দপুর থানার পুলিশ। সকালেই আক্রান্ত মণ্ডল সভাপতির উত্তর পঞ্চান্নর বাড়িতে যান দক্ষিণ কলকাতার বিজেপি প্রার্থী। প্রার্থী দেবশ্রীকে নিয়ে কর্মী-সমর্থকেরা আনন্দপুর থানায় ধর্নায় বসেছেন।এ প্রসঙ্গে বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি অনুপম বলেন, ‘‘দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূলের গড় হলেও এ বারের ভোটে সেই গড় নড়ে যাবে। আমাদের প্রার্থী এবং কর্মীরা ভোটপ্রচারে নেমে যে ভাবে সাড়া পাচ্ছেন, তাতে ভয় পেয়ে গিয়েছে তৃণমূল। সেই ভয় থেকেই আমাদের মণ্ডল সভাপতি ও কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘‘১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা ১০ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষের নির্দেশে বিজেপির মহিলা মণ্ডল সভাপতি-সহ কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। এলাকার প্রভাবশালী নেতা বলেই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না আনন্দপুর থানার পুলিশ।’’
অভিযোগের জবাবে তৃণমূল নেতা সুশান্ত বলেন, ‘‘আমরা যত দূর জানি ঘটনাটি ঘটেছে রাত সাড়ে ১১টার পর। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এত রাতে ভোটের প্রচারের কাজ করা যায় না। তা-ও আমি বলব, যা হয়েছে অন্যায় হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলের কোনও যোগাযোগ নেই। আমি খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি, ওই এলাকার বস্তিবাসীদের সঙ্গে বিজেপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এই সংঘর্ষে তৃণমূলের যুক্ত থাকার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এই ঘটনায় যে বা যারা যুক্ত, আমরা তাদের শাস্তির দাবি করছি। দলমত নির্বিশেষে পুলিশ-প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক, আমরা সেই দাবি রাখছি। তবে বিজেপি যে ভাবে তৃণমূল নেতৃত্বকে ঘটনার জন্য দায়ী করছে, তার কোনও সত্যতা নেই।”



