খবর লাইভ : রীতিমতো তোপের মুখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলছেন বুথস্তরীয় অফিসাররা তৃণমূল কংগ্রেসের চাপের মুখে ভুল তথ্য আপলোড করতে বাধ্য হচ্ছেন। দায় নেবেন নির্বাচন কমিশন। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, পশ্চিমবঙ্গে চলা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় তৃণমূল থেকে রাজনৈতিক চাপে বসে বাধ্য হয়ে বহু বুথস্তরীয় অফিসার ভুল তথ্য আপলোড করছেন। তার সে তথ্য, ভুল তথ্য আপলোড করার দায়ে স্কুল-শিক্ষক বা সরকারি কর্মীদের চাকরি যাবে, এমনকি এক বছরের জন্য জেলে যেতে হতে পারে।
শমীকের কথায়, কিছু ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দফতর বা দলীয় অফিস থেকে অফিসারদের তুলে নিয়ে গিয়ে দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য জানাতে বলা হচ্ছে। এ কারণে, যখন পরবর্তীতে ওই তথ্য যাচাই হবে, তখন যারা বিএলও হিসেবে কাজ করেছেন, তারাই বিপদে পড়বেন।
তিনি আরও বলেন, যদি বলা হয় যে, ভোটার তালিকা সংশোধনে সব ঠিকঠাক হয়েছে, তাহলে কমিশনকে নিজে পশ্চিমবঙ্গে এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। দিল্লির কার্যালয় থেকে ফোনে বা স্মারকলিপি দিয়ে চালিয়ে দেওয়া যাবে না, শমীক দাবি করেন।
শমীকের অভিযোগ, অনেক বিএলও যারা সাধারণ ভাবে শিক্ষক বা সরকারি কর্মচারী। এমন তথ্য আপলোডের চাপ পাচ্ছেন, যেগুলো ভুল বা যুক্ত হয়ত ভুলভাবে। তৃণমূল, এমনকি দলীয় অফিস বা ক্লাবে অফিসারদের নিয়ে গিয়ে ভুল তথ্য আপলোড করতে হয়। ভবিষ্যতে যদি সেই তথ্য যাচাই-বাছাই করলো, তবে ওই অফিসারদের চাকরি ও স্বাধীনতার উপর বড় হুমকি থাকবে।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি উল্লেখ করেন, এমন পরিস্থিতির জন্য পুরো দায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসি তারই। তিনি বললেন, দিল্লিতে থেকে স্মারকলিপি জমা দেওয়া বা কয়েকটা প্রতিনিধিকে পাঠিয়ে ওইসব ভুলের মুখে বাংলার ভোটারদের ভবিষ্যত বাজি রাখা যায় না।
গত বুধবার দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়েছিলেন শমীকেরা। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে সব সমস্যা হচ্ছে বলে বিজেপি মনে করছে, তা নিয়ে চিঠিও দিয়ে এসেছিলেন জ্ঞানেশকে। শুক্রবার জ্ঞানেশের উদ্দেশে শমীক বলেন, আপনি যদি মনে করেন যে, দিল্লিতে বসে থাকবেন, মাঝেমধ্যে কয়েকটা স্মারকলিপি জমা নেবেন আর ওখান থেকে নজরদারি চালিয়েই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর করে ফেলবেন, তা হলে ভুল করছেন।




