Special News Special Reports State

পুলিশ সুপারের নির্দেশ অমান্য করে পেঁড়ো এলাকায় বেআইনি মাটি কাটা বন্ধে কেন অনীহা প্রশাসনের!

0
(0)

খবর লাইভ : কয়লা, পাথর, বালি পাচারের মতো প্রাকৃতিক সম্পদের পাচার বন্ধ করতে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে। কয়লা কাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছে অনুব্রত মণ্ডল, তাঁর মেয়ে সুকন্যা মণ্ডল সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিকে। গ্রেফতার করা হয়েছে বাঁকুড়া থানার আইসি অশোক মিশ্রকেও। যিনি কয়লা পাচার কাণ্ডের মূল মাথা বিনয় মিশ্রের অত্যন্ত পরিচিত। এছাড়াও ইসিএলের বেশ কয়েকজন আধিকারিককেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হতে হয়েছে কয়লা কাণ্ডে পাচারকারীদের মদত দেওয়ার অভিযোগে। এছাড়াও মন্ত্রী মলয় ঘটক সহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বারে বারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রাকৃতিক সম্পদ বাঁচাতে বারে বারে কড়া বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর সেই নির্দেশ মানতে নারাজ পুলিশ প্রশাসনের একাংশ। অন্তত মাটি কাটা বন্ধে হাওড়ার পেঁড়ো থানার ভূমিকায় সেই প্রশ্নই উঠছে। শুধু পেঁড়ো থানায় না হরিশপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যিনি মাটি বিক্রি করা হবে না বলে খবর লাইভের প্রতিনিধির কাছে দাবি করলেও বাস্তবে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুকুরের মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন বলেই এলাকাবাসীদের দাবি। প্রশাসন ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকার লোকজন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি ও সিবিআইয়ের কাছে চিঠি দিলেন সঠিক তদন্তের জন্য।

পেঁড়ো থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে বেআইনি মাটি কাটার গাড়ি চললেও পুলিশ যেন কিছুই দেখছে না। হরিশপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক দাবি করেছিলেন, স্কুলের একটি পুকুর সংস্কারের জন্য একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ওই সংস্থা পুকুর সংস্কার করবে সেরকম একটি চুক্তি হয়েছে। তবে মাটি অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হবে বা বিক্রি করা হবে তেমন কোনও চুক্তি হয়নি।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে মোটা টাকার সেই পুকুরের মাটি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। যা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয় বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও কেন স্কুলের পুকুরের মাটি অন্যত্র পাচার করা হবে তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। স্কুলের পাশাপাশি পেঁড়ো থানার ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। পেঁড়ো থানার ওসি তন্ময় কর্মকারকে হাওড়া জেলা গ্রামীণ পুলিশের সুপার স্বাতী বাঙ্গালিয়া সঠিক তদন্ত করার কথা বললেও এখন দেখা যাচ্ছে তাঁর সেই নির্দেশ মানা হচ্ছে না। যেখানে হরিশপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক পর্যন্ত বলেছেন পুকুরের মাটি অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার কোনও চুক্তিই হয়নি। তাহলে কেন সেই মাটি অন্যত্র চলে যাচ্ছে সেই প্রশ্ন এলাকার সকলের। বাধ্য হয়ে এলাকার লোকজন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন। পেঁড়ো থানার ওসি তন্ময় কর্মকার বা হরিশপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত মাটি মাফিয়া অনন্ত বেরার সঙ্গে প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তৃণমূলকে বদনাম করতেই এলাকায় বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত অনন্ত গত শুক্রবার একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে। অনন্ত কাজ করলেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেবে না বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে বিজেপি দাবি করেছে, ওই মাটি মাফিয়া তাদের দলের কেউ নয়। অনন্তর সঙ্গে এদিন যোগাযোগ করা হলেও তার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আগে অবশ্য অনন্ত দাবি করেছিল সকলকে দেখেই (টাকা দিয়েই) সে এই কাজ করতে পারছে। খবর লাইভের প্রতিনিধিকেও সে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা (টাকা) দেওয়ার কথা বলে।
এদিকে বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। যাদের মধ্যে কয়েকজন স্কুল পড়ুয়াও রয়েছে। প্রতিবাদ করা হলে তাদেরকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তবে কেউ এখনও কোনও অভিযোগ থানায় করেননি। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই বেআইনি কাজ রুখতে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এরাজ্যে একের পর বেআইনি কাজ হলেও পুলিশ নীরব। কেন্দ্রীয় সংস্থা বেআইনি মাটি বিক্রি বন্ধেও নজর দেওয়া শুরু করেছে। সরকারি কোনও আধিকারিক জড়িত থাকলে তিনিও রেহাই পাবেন না।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *