খবর লাইভ : ভোট বড় বালাই, মানুষের প্রয়োজনে সারা বছর যাঁদের সদর্থক ভূমিকা দেখতে পাওয়া যায় না ভোটের দামামা বাজতেই তাঁরা ধর্মীয় তাস খেলতে চলে আসেন বাংলায়। মাসের পর মাস রাজ্যের প্রাপ্ত টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র, মাথার উপর ছাদ তৈরি করা যাচ্ছে না আবাস যোজনার টাকা না আসায়। কিন্তু বিধানসভা হোক বা লোকসভা, ভোটের আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি অব্যাহত। বড়দিনেই কলকাতায় এসেছেন অমিত শাহ ও জে পি নাড্ডা। গত রবিবার ব্রিগেডে গীতা পাঠের ফ্লপ শো থেকে নজর ঘোরাতে বঙ্গ সফরে আসতে হয়েছে গেরুয়া শিবিরের দিল্লি নেতৃত্বকে। তাই আজ ভোটের রণকৌশল ঠিক করার নামে গুরুদুয়ার থেকে কালীঘাট মন্দির ঘুরে ইমেজ বাঁচানোর চেষ্টা।
এদিন সকাল ১১: ২৭ মিনিটে এম জি রোডের গুরুদুয়ারায় পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সঙ্গে ছিলেন জে পি নাড্ডা। ঊর্ধ্বতন নেতাদের আনুকুল্য পেতে সময়ের আগেই গুরুদুয়ারায় পৌঁছে যান শুভেন্দু অধিকারী, অগ্নিমিত্রা পাল সহ একাধিক বঙ্গ বিজেপির নেতারা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকেও দেখা যায়। শিখ সম্প্রদায়ের ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ঘড়ি ধরে মাত্র ১৫ মিনিট সেখানে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ধর্মীয় স্থানের বাইরে বেরিয়ে এসে সকলকে নিয়ে ফটোসেশনে মেতে উঠতে দেখা গেল অমিত শাহকে। তাঁর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সকাল থেকে এম জি রোডের মতো ব্যস্ত রাস্তার দুপাশে দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন এই ক্ষতি কি পূরণ করবে পদ্ম শিবিরের নেতৃত্ব? গুরুদুয়ারা থেকে বেরিয়ে সোজা কালীঘাটে পৌঁছে যান অমিত শাহ-জে পি নাড্ডা। বিকেলে ন্যাশনাল লাইব্রেরীতে দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে গৃহমন্ত্রীর। হিন্দুত্বের নামে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করা বিজেপি সরকারের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, গতকাল খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে নিজের বাসভবনে বড়দিন পালন করেন। তারপর আজ গুরুদুয়ারা থেকে হিন্দু মন্দির, ভোট বাক্সের রাজনীতি করতে বিজেপি কতটা মরিয়া সেই ছবিটা ক্রমাগতই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। স্ট্র্যাটেজি সফরের নামে আসলে বাংলায় নিজেদের ইমেজ বাঁচাতে চাইছে বিজেপি, এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।




