Special News Special Reports State

মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয়র পাঠানো ‘মাসোহারা’র হিসেব এবার ইডির হাতে

0
(0)

খবর লাইভ : মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে পাঠানো ‘মাসোহারা’র হিসেব এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্তকারীদের হাতে? রেশন বণ্টন দুর্নীতির তদন্তে নেমে উদ্ধার করা এক ডায়েরিতে ব্যবসায়ীদের পাঠানো মাসিক টাকার হিসেব মিলেছে বলে ইডির একটি সূত্রের দাবি। ডায়েরিতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।

তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রীর কাছে মাসে মাসে টাকা পৌঁছে দেওয়ার এই তথ্য উঠে এসেছে বলে আধিকারিকদের একটি অংশের দাবি। দাবি আরও যে, প্রয়োজনে তাঁরা বিষয়টি আদালতেও জানাতে পারেন।খাদ্য দফতরের বিভিন্ন কাজ আদায়ের জন্য রেশন ব্যবসায়ীরা ওই টাকা তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয়কে দিতেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।

মন্ত্রীর ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসাবে পরিচিত ব্যবসায়ীরা নিয়মিত নগদে টাকা পাঠাতেন বলে ইডি সূত্রে খবর। সেই টাকা কখনও কখনও খোদ খাদ্যভবনেও পৌঁছে দেওয়া হত। টাকা হস্তান্তরের পর তার অঙ্ক ওই ডায়েরিতে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে ইডির কাছে দাবি করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত ওই ডায়েরিতে বেশ কয়েক বছরের পুরনো হিসাব লেখা রয়েছে। যদিও সময়কাল যা-ই হোক, রেশন দুর্নীতির তদন্তের ক্ষেত্রে এর মূল্য কম নয় বলেই অভিমত এক তদন্তকারীর।
বাজেয়াপ্ত ওই ডায়েরির বেশ কিছু পাতা জুড়ে রয়েছে একাধিক ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীর নাম। নামের পাশে টাকার অঙ্কও আছে। ডায়েরিতে উল্লেখ থাকা বিভিন্ন ব্যক্তি দফায় দফায় টাকা দিয়েছেন। সেইমতো একই ব্যক্তির নাম একাধিক বার তারিখ এবং টাকার অঙ্ক-সহ নথিভুক্ত করা হয়েছে। যা দেখে তদন্তকারীরা মনে করছেন, বাকিবুর রহমানের মতো ব্যবসায়ীরা বেআইনি ভাবে দরপত্র টেন্ডার পেতে এবং গোটা বছর যাতে বিভিন্ন ‘সুযোগসুবিধা’ নিতে পারেন, তার জন্য প্রতি মাসে এই টাকা ‘মাসোহারা’ হিসেবে পাঠাতেন।
ডায়েরির সব পাতা খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা দেখেছেন, কোনও মাসে কয়েক হাজার, তো কখনও লাখ টাকা ‘মাসোহারা’ দেওয়ার হিসাব ডায়েরিতে লেখা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সেই অঙ্ক কোটিতে গিয়ে ঠেকেছে। ইডির দাবি, ব্যবসায়ীদের থেকে প্রাপ্ত নগদ টাকার অঙ্ক যেমন লেখা রয়েছে, তেমনই কিছু ক্ষেত্রে সেই টাকা কাকে বা কোথায় পাঠানো হয়েছে, সেই হিসাবও রয়েছে। ইডি সূত্রের দাবি, ১০ জনেরও বেশি ব্যক্তির নাম রয়েছে ওই ডায়েরিতে। যার সিংহভাগই রেশন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে জানতে পেরেছেন তাঁরা। ডায়েরিতে নাম-থাকা ব্যক্তিদের খাদ্য দফতরে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও এক জনের বয়ানে উঠে এসেছে। একাধিক বয়ানে সেই তথ্য উঠে এসেছে। সেই টাকা যেমন নগদে দেওয়া হয়েছে, তেমনই মন্ত্রীর আদেশ মতো ঘুরপথে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হত বলেও জানতে পারছেন তদন্তকারীরা।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *