খবর লাইভ : স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ৬ জন শিক্ষক, যাঁদের চাকরি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হয়েছে, বৃহস্পতিবার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পৌঁছান। এই শিক্ষকেরা গত ২২ দিন ধরে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছিলেন, যেখানে তাঁরা পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ১০ বছরের চাকরি জীবনের পর পুনরায় পরীক্ষা দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন যে, ৩১ মে’র মধ্যে নতুন শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং চাকরি হারানো শিক্ষকদের জন্য বয়সের ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে, এই শিক্ষকেরা পুনরায় পরীক্ষায় বসতে অস্বীকার করে বলেছেন, “আমরা পরীক্ষায় বসতে পারব না, রাজ্য সরকারকেই আমাদের চাকরি নিশ্চিত করতে হবে।”
গত এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২৪,২০৩ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর নিয়োগ বাতিল হয়। এই রায়ের পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরি হারানো শিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এদিকে, কলকাতা হাইকোর্ট গত ২৩ মে পুলিশকে নির্দেশ দেয়, চাকরি হারানো শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করতে। এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশি হস্তক্ষেপে কিছুটা শিথিলতা এসেছে।
আজকের কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা শিক্ষকেরা তাঁদের চাকরি পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের কাছে মানবিক সহায়তা কামনা করেছেন।
ইচ্ছা ছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করবেন। প্রশ্ন করবেন, ১০ বছর সসম্মানে চাকরি করার পর দ্বিতীয় বার কী ভাবে যোগ্যতার পরীক্ষা দেবেন? সেই মতো বৃহস্পতিবার সকাল সকাল মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাসভবন চত্বরে উপস্থিত হয়েছিলেন চাকরিহারা শিক্ষিকারা। তাঁদের পথ আটকাল পুলিশ। বৈধ অনুমতিপত্র না থাকায় ছ’জন শিক্ষিকাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হল কালীঘাট থানায়।
তাঁদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নেতাজি ইন্ডোরে বলেছিলেন প্রয়োজনে তাঁদের সঙ্গে দেখা করবেন। সেই মতো মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতেই কালীঘাটে তাঁর বাসভবনে গিয়েছিলেন শিক্ষিকারা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতিপত্র না থাকায় তাঁদেরকে আটকায় কালীঘাট থানার পুলিশ। পরে ছ’জন শিক্ষিকাকে আটক করে কালীঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ছয় শিক্ষিকার নাম সঙ্গীতা সাহা, রূপা কর্মকার, স্মার্তি রায়, নুর আমিনা গুলশন, শিল্পী চক্রবর্তী এবং সাহানি নাজনিন।
মুখ্যমন্ত্রী এ ভাবে পরীক্ষায় বসার আবেদন করায় অসন্তুষ্ট চাকরিহারারা। তাঁদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী এর আগে নেতাজি ইন্ডোরে যে কথা বলেছিলেন, তার সঙ্গে মঙ্গলবার নবান্নে বলা তাঁর কথায় ফারাক রয়েছে। এ পরেই ফের প্রতিবাদ শুরু করেন চাকরিহারারা।




