খবর লাইভ : আরাবুল ইসলাম। রাজ্য রাজনীতির ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপ’ নেতাদের তালিকা তৈরি করলে একেবারে প্রথম সারিতে উচ্চারিত হতে তাঁর নাম। সেই আরাবুল ইসলামের ঘরের মাঠেই হার তৃণমূলের। আরাবুল ভাঙড়ের পোলেরহাট ২ নম্বর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা। গ্রাম পঞ্চায়েতের ফলাফলের প্রাথমিক ট্রেন্ডে জানা যাচ্ছে, আরাবুলের গ্রাম পঞ্চায়েতে পরাস্ত হয়েছে শাসকদল। পোলেরহাট দুই নম্বর পঞ্চায়েত দখল করেছে জমি রক্ষা কমিটি এবং আইএসএফের জোট।
জয়ের প্রবণতা স্পষ্ট হতেই গণনাকেন্দ্র ছাড়েন আরাবুল ইসলাম। পোলেরহাট ২ নম্বর অঞ্চলে হার স্বীকারও করে নেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক। এবছর পোলেরহাট ২ নম্বর পঞ্চায়েতে এবার আসন সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ২৪। সব আসনেই এবার লড়াই করে জমি রক্ষা কমিটি এবং আইএসএফ সমর্থিত নির্দলরা। জানা গিয়েছে, এই ২৪ আসনের বেশিরভাগেই জয়ী হয়েছেন জমি কমিটির নির্দলরা। ফলাফল স্পষ্ট হতেই এদিন গণনাকেন্দ্র ছাড়েন আরাবুল। তিনি স্বীকার করে নেন, পোলেরহাটের বেশিরভাগ আসনে পরাস্ত হয়েছে তৃণমূল। তবে তাঁর দাবি, ‘এমনটা হতেই পারে।’
সামগ্রিকভাবে গোটা ভাঙড়ে মনোনয়ন পর্ব থেকেই অশান্তি চলছে। বিশেষ করে ভাঙড় ২ নম্বর ব্লকে। যার জেরে ভাঙড় দু’নম্বর ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ২১৮ আসনের মধ্যে ৮৬টি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছে শাসকদল। কিন্তু যে যে পঞ্চায়েত আসনগুলিতে নির্বাচন হয়েছে, সেই আসনগুলিতে প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী আইএসএফের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে শাসকদলের। বেশ কিছু আসনে শাসকদলকে টেক্কা দিয়ে জয়ী হয়েছেন আইএসএফ প্রার্থীরা। তবে পোলেরহাট দুই ছাড়া বাকি ৯টি পঞ্চায়েতের অধিকাংশ আসনেই যেহেতু শাসকদল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছে, তাই বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে তৃণমূল খানিকটা হলেও এগিয়ে। পঞ্চায়েত সমিতিতে ভাঙড় এলাকায় ৩০টি আসন। তার মধ্যে ১৬টি-তে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে।এর ফলে পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ডও তৃণমূলই গ্রহণ করেছে। জেলা পরিষদের ৩ আসনের মধ্যে ২টি এগিয়ে তৃণমূল। এর মধ্যে রয়েছেন আরাবুলের ছেলে হাকিমুলও।
তিন আদিবাসী মহিলাকে দণ্ডি কাটিয়ে তৃণমূলে ফেরানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিল বিজেপি। যা ঘিরে সরগরম হয় রাজ্য রাজনীতি। দণ্ডিকাণ্ডে সেই তিন জনের মধ্যে শিউলি মার্ডিকে প্রার্থী করেছিল ঘাসফুল শিবির। দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন ব্লকের গোফানগর পঞ্চায়েতের ৭১ নম্বর চক বলরাম আসন থেকে জিতেছেন সেই শিউলি। ১০৫ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন তিনি।
পঞ্চায়েত সমিতির ভোটগণনার সময় উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জে। রানিগঞ্জ গার্লস কলেজে গণনা চলাকালীন তৃণমূল এবং সিপিএমের মধ্যে বচসা। পরিস্থিতি সামলাতে লাঠি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। লাঠির ঘায়ে জখম হয়েছেন বেশ কয়েক জন। তৃণমূল নেতা সৌমিত্র বন্দোপাধ্যায়ের মাথা ফেটেছে বলে দাবি।
বীরভূমের নানুর থেকে জেলা পরিষদে প্রথম বার প্রার্থী হয়ে জয়ী হলেন নানুরের তৃণমূল নেতা কাজল শেখ।। ৪৪ হাজারেরও বেশি ভোটে জেলা পরিষদে আসনে তিনি জয়ী হয়েছেন।
পরাজয় দেখে গণনাকেন্দ্র থেকে দুই বান্ডিল ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে পালাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেন তৃণমূল প্রার্থী রূপসোনা মল্লিক। তিনি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের পাঁচরা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯ নম্বর বুথের তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর কাছ থেকে দুই বান্ডিল ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। ওই তৃণমূল প্রার্থীকে আটক করে জামালপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। যদি মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের বুথে হারল তৃণমূল। মালদহের মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের কালিয়াচক ১ নম্বর পঞ্চায়েতের ১৮৪ নম্বর বুথ। ওই বুথে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন হাসিদুর রহমান। কংগ্রেস প্রার্থী মাহতাব শেখ জয়ী হয়েছেন ১১০ ভোটে।




