খবর লাইভ : রাজ্যে চলছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। জেলায় জেলায় ব্যাপক বোমাবাজি, গুলি চলতে দেখা গিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।আসলে রাজ্য পুলিশের সাহায্য নিয়ে শাসক তৃণমূল সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলে সকাল থেকেই অভিযোগ তুলছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার স্বয়ং এই অভিযোগ তুলছেন। কিন্তু নিজের জেলা দক্ষিণ ২৪ দিনাজপুরে উল্টো চিত্র দেখা গেল। রাজ্য পুলিশের এক কর্মী সুকান্তের কাছে এসেই দায়িত্ব থেকে মুক্তির আর্জি জানালেন।বললেন, ছাপ্পা ভোটে বাধা দেওয়ার জন্য তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে শাসকদলের নেতারা। মৃত্যুভয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান।
ঘটনার সূত্রপাত সকাল ১০টা নাগাদ।গঙ্গারামপুরের সুখদেবপুরে ১৭৬ নম্বর বুথে ছাপ্পা ভোট পড়ছে বলে অভিযোগ তোলে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সুকান্ত। তখনই রাজ্য পুলিশের কর্মী কৃষ্ণমোহন ঝাঁ সুকান্তের গাড়ির কাছে এসে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার আর্জি জানান। কৃষ্ণমোহন জানান, তিনি শিলিগুড়ি কমিশনারেট থেকে এসেছেন। এই অঞ্চলের কাউকেই তিনি চেনেন না। তবে শাসকদলের লোকেরাই তাঁকে মেরে ফেলার জন্য শাসাচ্ছেন বলে অভিযোগ কৃষ্ণমোহনের। সেই সময়ে সুকান্তকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আপনার হাতে তো লাঠি রয়েছে, ব্যবহার করছেন না কেন।’’
কৃষ্ণমোহন বলেন, ‘‘আমি সরতে চাইছি। আমি কী করব একা? আমায় হুমকি দিচ্ছে। আমি ছাপ্পা ভোটে বাধা দিয়েছি। কিন্তু ওদের দাবি, পুরোপুরি ছাপ্পা ভোট হবে।’’’ একই সঙ্গে কৃষ্ণমোহন বলেন, ‘‘আমার লাইন সামলানোর কথা। কিন্তু বাধ্য হয়ে বুথের ভিতরে গিয়েছি। তার পরেই মেরে ফেলার হুমকি। আমি এখন এখান থেকে সরে যেতে চাইছি।’’ তাঁর দাবি, এই বিষয়ে তিনি ফোন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও কেউ কিছু জানাননি। তিনি বলেন, ‘‘আমাকে মেরে ফেলবে বলছে। পুলিশকর্তাদের ফোন করেছি। তারা কিছুই বললেন না।’’
এরপরই সুকান্ত বলেন, ‘‘গোটা রাজ্যেই ভোটের নামে প্রহসন চলছে। পুলিশকে নিয়ে ভোট করছে তৃণমূল। আর গঙ্গারামপুরের ঘটনা দেখিয়ে দিল, কোথাও কোথাও সৎ পুলিশকর্মীরা প্রতিবাদ করলে তাঁরাও কতটা অসহায়।’’




