খবর লাইভ : ঈশান কিশান ও সূর্যকুমার যাদবের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে কম পড়ে গেল ২১৫ রানের টার্গেটও। ব্যর্থ গেল পাঞ্জাব কিংসের লিয়াম লিভিং স্টোন ও জিতেশ শর্মার দুরন্ত ব্যাটিং। ৭ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। আরও একটি হাইস্কোরিং ম্যাচ দেখল আইপিএল ২০২৩। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩৮.৫ ওভারে উঠল ৪৩০ রান। অ্যাওয়ে ম্যাচে টস জিতে জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন রোহিত শর্মা। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৪ রান করে শিখর ধওয়ানের দল। পাঞ্জাবের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রানের ইনিংস খেলেন লিয়াম লিভিংস্টোন। এছাড়া ৪৯ রান করে জিতেশ শর্মা। রান তাড়া করতে নেমে ১৮.৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌছে যায় ৫ বারের আইপিএল জয়ীরা। সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন ঈশান কিশান ও ৬৬ রান করেন সূর্যকুমার যাদব।
এদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি পাঞ্জাবের। ১৩ রানে প্রথম উইকেট পড়ে। ৯ রান করে আরশাদ খানের বলে আউট হন প্রভশিমরন সিং। এরপর শিখর ধওয়ান ও ম্যাট শর্ট মিলে এগিয়ে নিয়ে যান দলের ইনিংস। ৪৯ রানের পার্টনারশিপ করেন দুজন। দলের ৬২ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৩০ রানে পীযুশ চাওলার বলে আউট শিখর ধওয়ান। এরপর লিয়াম লিভিংস্টোন আসেন ক্রিজে। ম্যাট শর্টের সঙ্গে জুটি বেঁধে ৩৩ রান যোগ করেন। ৯৫ রানে পডে পাঞ্জাবের তৃতীয় উইকেট। ২৭ রান করে পীযুশ চাওলার দ্বিতীয় শিকার হন শর্ট।
এরপর ২০ ওভার পর্যন্ত লিয়াম লিভিংস্টোন ও জিতেশ শর্মা মারকাটারি ব্যাটিং করে যান। একের পর এক আক্রমণাত্মক শট খেলেন দুজনে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কোনও রণনীতি ও বোলার কাজে আসেনি লিভিংস্টোন ও জিতেশ জুটির কাছে। শতরানের পার্টনারশিপও পূরণ করেন দুজনে। শেষে দিকে আরও বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাটিং করেন দুজনে। লিভিং স্টোন নিজের অর্ধশতরানও পূরণ করেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৪ রান করে পাঞ্জাব। ৪২ বলে ৮২ রান করে লিভিংস্টোন ও ২৭ বলে ৪৯ রান করে জিতেশ শর্মা অপরাজিত থাকেন।
বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতে খাতা না খুলেই ঋষি ধওয়ানের সাজঘরে ফেরত যান মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধনিনায়ক রোহিত শর্মা। এরপর ঈশান কিশান ও ক্যামেরন গ্রিন ধরেন দলের রাশ। একদিকে থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ঈশান। তাকে সঙ্গ দেন গ্রিন। অর্ধশতরানের পার্টনারশিপও করেন দুজনে। ৫৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট পড়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। ২৩ রান করে ন্যাথান এলিসের বলে আউট হন ক্যামেরন গ্রিন। এরপর ক্রিজে আসেন সূর্যকুমার যাদব। ঈশান ও সূুর্য জুটি বিদ্ধংসী ব্যাটিং শুরু করেন। তাদের ব্যাটে ভর করে ঘুড়ে দাঁড়ায় মুম্বই। একদিকে উইকেট বাঁচানো অপরদিকে একের পর এক মারকাটারি শট খেলতে থাকেন সূর্য ও ঈশান। ২১৫ রানের লক্ষ্য যে এই দুই তারকার ব্যাটিংয়ে সৌজন্য সহজেই হয়ে যাবে তা বুঝতেও পারেননি মুম্বই ফ্যানেরা।
সূর্যকুমার যাদব ও ঈশান কিশান নিজেদের শতরানের পার্টনারশিপ পূরণ করেন। ব্যক্তিগত হাফ সেঞ্চুরিও করেন দুজনে। ১৭০ রানে পরে তৃতীয় উইকেট। ৩১ বলে ৬৬ রান করে ন্যাথান এলিসের বলে আউট হন সুর্য। পার্টনারশিপ ভাঙতেই সাজঘরে ফেরেন ঈশান। দলের ১৭৮ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪১ বলে ৭৫ রান করে অর্শদীপ সিংয়ের শিকার হন ঈশান। তবে ততক্ষণে দলের জয় নিশ্চিৎ করে দিয়েছেন দুই তারকা। শেষের দিকে টিম ডেভিড ও তিলক ভর্মা দলকে জয় এনে দেন। ১০ বলে ১৯ ও ১০ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন টিম ডেভিড ও তিলক ভার্মা। এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।




