খবর লাইভ : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে নদীপাড় বেঁধে মানুষকে রক্ষা করার বার্তা দিচ্ছেন তখন তৃণমূলেরই একাংশের মদতে দামোদরের পাড় কেটে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজ চলছে অবাধে। হাওড়ার পেঁড়ো থানার অন্তর্গত জয়নগরে মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষজন। বর্ষার সময় নদীর ভাঙন ধরার আশঙ্কা প্রকাশ করে ইতিমধ্যেই এলাকার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দেওয়া শুরু করেছেন। এদিকে মাটি মাফিয়াদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাদের মদতেই তারা এই বেআইনি কাজ করতে পারছে। পাশাপাশি খবর যাতে প্রকাশ না করা হয় তারজন্য খবর লাইভের সাংবাদিকে মোটা টাকার প্রস্তাব দেয় মাটি মাফিয়া পলাশ মণ্ডল। সে দাবি করে, পুলিশকে সেটিং করে ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে সন্তুষ্ট করেই এই কাজ করছি। আপনারা দয়া করে খবর করবেন না তাহলে প্রশাসন কাজ বন্ধ করে দেবে। কত টাকা দিতে হবে বলুন সেই টাকা দেবো আমরা কিন্তু খবর করবেন না।
বর্ষাকালে দামোদরের রূপ ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। দামোদর তীরবর্তী প্রায় সব এলাকায় বন্যায় প্লাবিত হয়। সেই তালিকার বাইরে নেই উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার দামোদরের গা ঘেঁষা জয়নগরও। বন্যা থেকে এলাকার লোকজনকে বাঁচাতে ইতিমধ্যেই কংক্রিটের দেওয়াল দিয়ে ঘেরার কাজ শুরু হয়েছে। এরমধ্যেই ওই এলাকায় মাটি মাফিয়াদের দাপট বেড়েছে। মোটা টাকার বিনিময়ে রাতের অন্ধকারে নদীর পাড়ের মাটি কেটে ডাম্পারে করে হাওড়া জেলার ধূলাগড়, মুন্সিরহাট, আমতায় পাচার হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন ও শাসকদলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার লোকজন। ইতিমধ্যেই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন।
মাটি মাফিয়া পলাশ মণ্ডল জানিয়েছে, পুলিশ ও নেতারা সব সেটিং আছে। দুই হাজার টাকায় আমরা ডাম্পার লোড দিচ্ছি। উদয়নারায়ণপুর থানা ও পেঁড়ো থানা কিছু করবে না। বিধায়কও কিছু বলবেন না। তবে মিডিয়া হলে সমস্যা আছে।
বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, ‘কয়লা, গরুর পর যাতে সিবিআই বালি পাচারের তদন্তভার নেয় আমরা সেই বিষয়টি নিয়ে আদালতে শীঘ্রই যাব।’
এবিষয়ে উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজাকে ফোন করা হলে তিনি বিধানসভায় আছেন বলে জানান। পেঁড়ো থানার ওসি পিয়ালী ঘোষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।



