games Special News Special Reports

রিচার্লিসনের ছবির মতো সুন্দর গোল, ব্রাজিলের দুরন্ত শুরু

0
(0)

খবর লাইভ :

ব্রাজিল – ২

সার্বিয়া – ০

অবিশ্বাস্য! ব্রাজিল-সার্বিয়া ম্যাচে ৭৩ মিনিটে রিচার্লিসনের দ্বিতীয় গোলটি তেমনই। ছবির মতো সুন্দর এক গোল। চাইলে ফ্রেমেও বাঁধাই করে রাখা যেতে পারে। এর আগে ব্রাজিলের ডেডলক ভাঙা প্রথম গোলটিও এসেছে তাঁর পা থেকে। দুর্দান্ত রিচার্লিসনে ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলের দ্যুতি ছড়িয়ে সার্বিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

লুসাইল স্টেডিয়ামে আগের দিন ফাঁস হওয়া দল থেকে একটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ব্রাজিল। ফ্রেদের জায়গায় আসেন কাসেমিরো। ম্যাচের শুরুতে কিছুটা নিচে নেমে এসে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করে ব্রাজিল। ৪ মিনিটে সেভাবে গড়া আক্রমণ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে হুমকি তৈরি করেছিলেন রাফিনিয়া। তবে ঠিকঠাক ক্রস করতে না পারায় বিপদে পড়তে হয়নি সার্বিয়াকে।

সার্বিয়া অবশ্য প্রথম কয়েক মিনিট চেষ্টা করেছিল আক্রমণে গিয়ে ব্রাজিলকে চোখ রাঙাতে। তবে সার্বিয়ার এই কৌশল ব্রাজিলের ভয়ংকর আক্রমণভাগের জন্য জায়গায় করে দিচ্ছিল।
ম্যাচের ৯ মিনিটে আবারও আক্রমণে যাওয়ার সুযোগ পায় ব্রাজিল। কাসেমিরোর কাছ থেকে পাওয়া পাস দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়েও সার্ব ডিফেন্সের জটলা এড়িয়ে শট নিতে ব্যর্থ হন নেইমার।

১৩ মিনিটে দুর্দান্ত গতিতে সার্বিয়ান ডিফেন্সে ঢুকে পড়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে কর্নারের বিনিময়ে সেই আক্রমণ ঠেকায় সার্বিয়ান ডিফেন্ডাররা।

ব্রাজিলের আগ্রাসী কৌশলের কারণে এ সময় প্রায় সবাই  নিচে নেমে ডিফেন্ড করতে শুরু করে। আর চেষ্টা করে প্রতি আক্রমণে সুযোগ তৈরির।

এর মাঝে ২১ মিনিটে কাসেমিরোর দূরপাল্লার শট সরাসরি গিয়ে জমা হয় সার্বিয়ান গোলরক্ষকের গ্লাভসে। শুরুর কয়েক মিনিট বাদ দিলে ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিটে ব্রাজিলের প্রেসিং সামলেই সময় পার করেছে সার্বিয়া।

২৬ মিনিটে প্রথমবার বলার মতো কোনো আক্রমণ তৈরি করে সার্বিয়া। তবে আলিসনের দেওয়াল ভাঙার মতো তা যথেষ্ট ছিল না।

দুই মিনিট পর থিয়াগো সিলভার দুর্দান্ত থ্রু পাস খুঁজে নিয়েছিল ভিনিসিয়ুসকে। তবে সার্বিয়ান গোলরক্ষক এগিয়ে এসে দারুণভাবে আটকে দেন সেই আক্রমণ।
ব্রাজিলের প্রেসিং ও আগ্রাসী ফুটবলে রীতিমতো কোনঠাসা হয়ে পড়ে সার্বিয়া। নিজেদের অর্ধ ছেড়ে মাঝমাঠও পেরোতে পারছিল না তারা। তবে নিজেরা সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও ব্রাজিলকে ঠেকিয়ে রাখার কাজটা বেশ ভালোভাবেই করে যাচ্ছিল তারা।

৩৫ মিনিটে দারুণ জায়গায় বল পেয়েও দুর্বল শটে সুযোগ নষ্ট করেন রাফিনিয়া। ৪২ মিনিটে নিকোলা মিলেনকোভিচের ভুলে বল পেয়েও সময় মতো শট নিতে ব্যর্থ হন ভিনিসিয়ুস। নিকোলোই এসে আটকে দেন ভিনিকে। দাপুটে খেলেও ব্রাজিলের গোল না পাওয়ার হতাশাতেই শেষ হয় ম্যাচের প্রথমার্ধ।

বিরতির পরের মুহূর্তে ফের রাফিনহার সামনে সুযোগ এসেছিল ব্রাজিলকে এগিয়ে দেওয়ার। এবারও তাঁকে ঠেকিয়ে দেন সার্বিয়ান গোলরক্ষক। একটু পর ডি-বক্সের একটু বাইরে ফ্রি-কিক পায় ব্রাজিল। তবে দারুণ জায়গায় বল পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি নেইমার। ৫৫ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের পাসে ডি-বক্সের ভেতর নেইমারের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

৬০ মিনিটে আলেক্স সান্দ্রোর ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বুলেট গতির শট গোলরক্ষকের দেওয়াল পেরিয়ে পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

আর কতক্ষণ! ৬২ মিনিটে রিচার্লিসন ঠিকই ভেঙে দেন সার্বিয়া ডিফেন্স। আক্রমণটা তৈরি করেছিলেন নেইমার। তবে শট নেওয়ার জায়গা বের করার আগেই ফাঁকা পেয়ে দ্রুত শট নিয়ে নেন পাশে থাকা ভিনিসিয়ুস। রিয়াল মাদ্রিদ তারকার প্রচেষ্টা সার্বিয়ান গোলরক্ষক মিলিনকোভিচ সাভিচ ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি শটে বল জালে জড়ান রিচার্লিসন।

গোল খেয়ে কিছুটা আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টা করে সার্বিয়া। দুই একবার ব্রাজিল ডিফেন্সে হানাও দেয়। তবে সমতাসূচক গোলটি আসেনি। উল্টো বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সেরা মুহূর্তটি উপহার দিয়ে ব্রাজিলকে জোড়া গোলে এগিয়ে দেন রিচার্লিসন।

৭৩ মিনিটের এই গোলটি ফ্রেমে বাঁধাই করে রাখার মতো। ম্যাচে দারুণ খেলা ভিনিসিয়ুসের অসাধারণ এক পাস নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুর্দান্ত এক ব্যাক ভলিতে গোল করে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করেন এই টটেনহাম তারকা। একটু পর কাসেমিরোর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে তৃতীয় গোলটি পাওয়া হয়নি ব্রাজিলের। তবে এই ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিল যেন প্রতিপক্ষকে বার্তাও দিয়ে রাখল।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *