games Special News Special Reports

ফের অঘটন,এবার জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে জাপানের চমক

0
(0)

খবর লাইভ : এবারের বিশ্বকাপ জুড়ে অঘটনের ঘনঘটা। আর্জেন্টিনার পর জার্মানি, পরপর দুই দিন দুই পরাশক্তি এবং সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ধরাশায়ী। আর্জেন্টিনাকে মাটিয়ে নামিয়ে ছিল সৌদি আরব। আজ জার্মানিকে হারিয়ে আরও একটা অঘটনের জন্ম দিল এশিয়ারই আরেক দল জাপান। সেটাও অবিশ্বাস্যভাবে! ১-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়া ম্যাচটা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জাপান জিতে নিয়েছে ২-১ গোলে।

জার্মান দল অবশ্য ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনার জন্ম দেয় দলীয় ছবি তোলার সময় প্রতীকী এক প্রতিবাদের মাধ্যমে। বিশ্বকাপের আগে থেকেই কাতারের সাংস্কৃতিক উদারতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানকার সমকামী-বিদ্বেষী আইন নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। সেই প্রতিবাদে সংহতি জানিয়ে ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও ওয়েলস সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাঁদের অধিনায়কেরা বিশেষ এক ধরনের আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামবেন, যেটাকে বলা হচ্ছে ‘ওয়ান লাভ’ আর্ম ব্যান্ড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিফার আপত্তি ও শাস্তির হুমকিতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে দেশগুলোর। ব্যাপারটা যে জার্মানি ভালোভাবে নেয়নি সেটাই তারা আজ বুঝিয়ে দিয়েছে ম্যাচের আগে। দলীয় ছবি তোলার সময় জার্মান খেলোয়াড়দের সবাই মুখে হাত দিয়ে রেখেছিলেন, যার মানে হচ্ছে, তাদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না, প্রতিবাদ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ ফের সিবিআইয়ের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়

মাঠের খেলায়ও বিরতির আগে জার্মানিই বেশি দাপট দেখিয়েছে। জপান শুরুটা অবশ্য করেছিল জার্মানিকে ভয় ধরিয়ে। ৮ মিনিটের সময় মাঝমাঠে ইলকায় গুন্দোয়ানের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে জাপানি মিডফিল্ডার দাইচি কামাদা বল বাড়ান সতীর্থ জুনিয়া ইতোকে। ইতোর লম্বা ক্রস যায় দাইজেন মায়েদার পায়ে। বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি মায়েদা। কিন্তু সাইডলাইনে তখন দেখা যায় সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকা। হাঁপ ছেড়ে বাঁচে জার্মানি।

ওই গোলটা না হওয়ায় জাপান যেমন কিছুটা হতোদ্যম হয়ে পরে, জার্মানি চাঙা হয়ে উঠে দারুণভাবে। ১৬ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে ইয়োশুয়া কিমিখের ক্রসে হেড করেছিলেন আন্টনিও রুডিগার। কিন্তু লক্ষ্যে থাকেনি সেটা। ২৮ মিনিটে ইলকায় গুন্দোয়ানের একটা শট ঠেকিয়ে দেন জাপানি গোলরক্ষক শুইচি গোন্দা। তবে মিনিট তিনেক পরেই এগিয়ে যায় জার্মানি।

৩১ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতরে আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে জার্মান ডিফেন্ডার ডেভিড রোউমকে ফাউল করে বসেন জাপানি গোলরক্ষক শুইচি গোন্দা। রেফারি সঙ্গেও সঙ্গেই পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন, পরে ভিএআর দেখেও অটল থাকেন সেই সিদ্ধান্তে। গুন্দোয়ানের স্পট কিকে এগিয়ে যায় জার্মানি।

বিরতির আগে আরও দুইবার শট ভালো সুযোগ পেয়েও শট বাইরে নষ্ট করে জার্মানি, একবার ইয়োশুয়া কিমিখ আরেকবার জামাল মুসিয়ালা। তবে প্রথমার্ধের যোগ হওয়া সময়ে জাপানের জালে ঠিকই বল পাঠিয়ে দেন কাই হাভার্টজ। কিন্তু দুর্ভাগ্য জার্মানির, অফসাইডের কারণে এবার বাতিল হয়ে যায় ওদের গোলও।

বিরতির পর মাঠের নামার মিনিট চারেকের মধ্যেই দারুণ আরেকটা গোলের সুযোগ পায় জার্মানি। প্রতি আক্রমণে নিজেদের বক্স থেকে রোউম বল বাড়ান মুসিয়ালার দিকে। জাপানের পাঁচজন খেলোয়াড়কে পেরিয়ে দারুণ এক শটও নিয়েছিলেন মুসিয়ালা। কিন্তু সেটা বেরিয়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
শুরু থেকেই দারুণ খেলতে থাকা গুন্দোয়ান বিরতির পরেও ছিলেন একই ছন্দে। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগ, সব জায়গাতেই ছিল তাঁর সদর্প উপস্থিতি।

৬৬ থেকে ৭০-এই চার মিনিটে তো জাপানের বক্সে বেশ কয়েকটা সুযোগই পেয়েছিল জার্মানি। কিন্তু জাপান গোলরক্ষক গোন্দা দারুণভাবে ঠেকিয়েছেন সবগুলো শট।

জাপান অবশ্য একেবারে বসে থাকেনি। সুযোগ পেলেই প্রতি আক্রমণে উঠেছে, বেশ কয়েকবার ভীতিও ছড়িয়েছে জার্মান রক্ষণভাগে। ৭৩ মিনিটে তো ইতোর একটা শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে জার্মানিকে বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক ম্যানুয়াল নয়্যার। তবে জাপান হাল ছাড়েনি যার পুরস্কার তারা পেয়ে যায় মিনিট তিনেক পরেই। কারোকু মিতোমার পাস থেকে বল পেয়ে শট নেন তাকুমি মিনামিনো। তাঁর শট নয়্যার ধরতে না পারলেও ফিরিয়ে দেন। তবে রিতসু দোয়ানের ফিরতি শট আর আর ঠেকাতে পারেনি।

সমতা ফেরানোর গোলের পর জাপান একেবারে তেতে উঠে। ফ্রি-কিক থেকে ইতাকুরার লম্বা পাস যায় তাকুমা আসানোর কাছে। যিদি দারুণ এক ছোঁয়ায় ফাঁকি দেন জার্মান ডিফেন্ডার নিকো শ্লোটারবেককে। তারপর দূরহ এক কোন থেকে শট নিয়ে নয়্যারের মাথার উপর দিয়ে পাঠান জালে। জার্মান দর্শকদের স্তব্ধ করে গর্জন করে উঠেন জাপানি সমর্থকেরা। এরপর হন্যে হয়ে চেষ্টা করেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি জার্মানি।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *