games Special News Special Reports

২০১৯ এর পর ২০২২ বিশ্বকাপেও একার হাতে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতালেন স্টোকস

0
(0)

খবর লাইভ : ২০১৬ টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে তাঁর করা ইনিংসের শেষ ওভারে প্রথম চার বলে চারটি ছয় মেরে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের আশায় জল ঢেলে দিয়েছিলেন কার্লোস ব্রেথওয়েট। ওয়েষ্ট ইন্ডিজ তারকার হাতে ইডেন গার্ডেনে বেদম প্রহারের পর অনেকেই ভেবেছিলেন তাঁর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তিনি বেন স্টোকস, যিনি একবার হারলে দশবার জেতার স্বপ্ন দেখেন, তিনি জেতেন। আর সেই স্টোকসেরই দানবীয় ব্যাটিংয়ে ভর করে দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল ইংল্যান্ড। ২০১৯ এ ৫০ ওভারের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে স্টোকস দুরন্ত ৮৪ রানের নট আউটের ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডকে কাপ জিতিয়েছিলেন। ফের তাঁরই দুরন্ত ৫২ নট আউটের ইনিংসে ভর করে ২০২২ টি২০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।

৩০ বছর আগে এই পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই ফাইনালে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ইংরেজদের। অবশেষে দুঃখ ঘুচল ইংরেজদের। ‘ইমরান খান’ হওয়া হল না বাবর আজমের। পাকিস্তানকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ইংল্যান্ড। দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষে শুধুমাত্র বেন স্টোকসের দুরন্ত ইনিংসের কাছে হারতে হল বাবরের পাকিস্তানকে। ২০১০ সালের পরে আরও এক বার ২০ ওভারের বিশ্বকাপ জিতল ইংল্যান্ড। মেলবোর্নে ফাইনালে পাকিস্তানকে হারালেন জস বাটলাররা। প্রথমে বল করে মেলবোর্নের গতিময় উইকেটে দুরন্ত বল করেন ইংল্যান্ডের বোলাররা। বিশেষ করে স্যাম কুরান। এদিন নিয়মিত ব্যবধানে পাকিস্তানের উইকেট পড়তে থাকে। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৭ রান করতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। দলের হয়ে সর্বাধিক ২৮ বলে ৩৮ রান করেন শান মাসুদ। বাবর ৩২ রান ও মহম্মদ রিজওয়ান ১৫ রান করেন। দুর্দান্ত বল করেন ইংল্যান্ডের স্যাম কুরান। তিনি চার ওভারে মাত্র ১২ রান দল দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন। ভালো বল করেন আদিল রশিদও। তিনি দুই উইকেট নেন। ক্রিস জর্ডনও ২টি উইকেট নেন। রান তাড়া করতে নেমে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে গেলেন বাটলাররা। অর্ধশতরান করেন স্টোকস।
এদিন টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বাটলার। তাঁর সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণিত করেন দলের বোলাররা। প্রথম থেকেই ঠিক লাইন-লেংথে বল করছিলেন বেন স্টোকস, ক্রিস ওকসরা। পাকিস্তানকে প্রথম ধাক্কা দেন স্যাম কারেন। ১৫ রানের মাথায় রিজওয়ানকে সাজঘরে পাঠান তিনি। তিন নম্বরে নেমে আক্রমণাত্মক খেলার চেষ্টা করেন মহম্মদ হ্যারিস। কিন্তু সফল হতে পারেননি। ৮ রান করে তাঁকেও ফিরতে হয়।

আরও পড়ুনঃ হিমাচলপ্রদেশের ৬৮ আসনে নির্বাচন শেষ,  ভোটদানের হার ৬৬ শতাংশ

দু’উইকেট পড়ে যাওয়ার পরে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক বাবর ও শান মাসুদ। চার, ছক্কা কম হলেও মেলবোর্নের বড় মাঠ কাজে লাগিয়ে দৌড়ে রান তুলছিলেন তাঁরা। বড় ইনিংস খেলার দিকেই এগোচ্ছিলেন বাবর। কিন্তু ৩২ রানের মাথায় রশিদের গুগলি বুঝতে না পেরে বোলারের হাতেই সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পাক অধিনায়ক। পরের ওভারেই শূন্য রানে আউট হয়ে যান ইফতিকার আহমেদ। ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। সেখান থেকে দলকে টানতে থাকেন শান মাসুদ ও শাদাব খান। কিন্তু ডেথ ওভারে ছন্দপতন হয় পাকিস্তানের। পর পর উইকেট পড়তে থাকে। ৩৮ রানে আউট হয়ে মাসুদ ফিরলে কিছুক্ষণ পর শাদাবও ২০ রান করে আউট হন। বাকিরা কেউ রান না পাওয়ায় ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৭ রান তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের হয়ে স্যাম কারেন ৩টি, রশিদ ও জর্ডন ২টি করে উইকেট নেন। ভারতের
বিরুদ্ধে ভাল খেললেও ফাইনালে মাত্র ১ রানে আউট হন অ্যালেক্স হেলস। নিজের প্রথম ওভারে দুর্দান্ত ইয়র্কারে তাঁকে সাজঘরে ফেরান শাহিন আফ্রিদি। কিন্তু অপর প্রান্তে বাটলারকে দেখে মনে হচ্ছিল, ভারতের বিরুদ্ধে যেখানে শেষ করেছিলেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেখান থেকেই শুরু করেছেন। নাসিম শাহের প্রথম ওভারে বেশ কয়েকটি চার মারেন। পাকিস্তানকে খেলায় ফেরান হ্যারিস রউফ। প্রথমে ১০ রানের মাথায় ফিলিপ সল্ট ও তার পরে ২৬ রানের মাথায় বাটলারকে আউট করেন তিনি।
বাটলার আউট হলে বেশ চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। বেন স্টোকস ও হ্যারি ব্রুক জুটি বেঁধে এরপর দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। যে ভুল পাকিস্তানের ব্যাটাররা করেছিলেন সেই ভুল তাঁরা করেননি। বল দেখে খেলছিলেন। অহেতুক ঝুঁকি নেননি। ধীরে ধীরে লক্ষ্যের কাছে যাচ্ছিলেন তাঁরা। পাকিস্তানের বোলাররা চেষ্টা করছিলেন এই জুটি ভাঙতে। নাসিম এক ওভারে রান কম দেন। চাপ কিছুটা বাড়ায় পরের ওভারে শাদাবকে বড় শট মারতে গিয়ে শাহিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ব্রুক। তিনি করেন ২০ রান। পরের ওভারে স্টোকসকে রান আউটের সুযোগ ফস্কান শাদাব।

শেষ দিকে রানের গতি একেবারে কমে যায় ইংল্যান্ডের। নাসিম, হ্যারিসদের বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারছিলেন না স্টোকস। দেখে বোঝা যাচ্ছিল চাপে পড়ে যাচ্ছেন তিনি। শেষ পাঁচ ওভারে জিততে দরকার ছিল ৪১ রান। বল করতে আসেন শাহিন। কয়েক ওভার আগেই ক্যাচ ধরতে গিয়ে চোট পেয়েছিলেন তিনি। ফলে বল করতে যাওয়ার সময় খোঁড়াচ্ছিলেন। এক বল করেই উঠে যান শাহিন। বড় ধাক্কা খায় পাকিস্তান। শাহিনের ওভার শেষ করেন ইফতিকার। শেষ দু’বলে একটি চার ও একটি ছক্কা মারেন স্টোকস। ওই দু’বলেই খেলার ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়।

আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি ইংল্যান্ডকে। শেষ পর্যন্ত ৬ বল বাকি থাকতে খেলা জিতে যায় ইংল্যান্ড। ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন স্টোকস।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *