খবর লাইভ :গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে শাসক বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেসের অন্তর্দলীয় অসন্তোষ আর ধামাচাপা দেওয়া যাচ্ছেনা। দলের প্রার্থী তালিকায় স্থান না পেয়ে দুটি দলেরই অনেক সিনিয়র নেতা নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেকে আবার দলত্যাগ করে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। টিকিট বরাদ্দ নিয়ে বিজেপিতে এখন অসন্তোষ প্রকাশ্যে আছড়ে পড়েছে। ভাদোদরায় বিজেপিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বর্তমান বিজেপি বিধায়ক মধু শ্রীবাস্তব এবং প্রাক্তন বিধায়ক দিনু প্যাটেল ওরফে দিনু মামা টিকিট না পেয়ে নির্দল হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা করেছেন। প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সাত বার বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত যোগেশ প্যাটেলও টিকিট না পাওয়ার আশংকায় দলের বিরোধিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন । তিনি নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এছাড়া গত নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রাক্তন বিধায়ক সতীশ নিশালিয়াকেও টিকিট দেওয়া হয়নি। স্বতন্ত্র হিসেবে লড়তে মনস্থির করেছেন তিনি। বিজেপি সূত্র বলছে, যোগেশ প্যাটেলের মঞ্জলপুর আসনের প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তাই যোগেশকাকা ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন। বিজেপি নেতারা এবং ভাদোদরার জনগণ বিশ্বাস করেন যে এই চার নেতা যদি স্বতন্ত্র হিসাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তবে এটি ভাদোদরার রাভাপুরা, সায়াজিগঞ্জ, আকোটা সহ সমস্ত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিজেপি প্রার্থীদের জন্য সমস্যা তৈরি করবে।এসব নেতারা এখন তাদের নির্বাচনী এলাকায় লাগাতার বৈঠক করছেন। এছাড়াও পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এভাবে ভোটারদের মনের কথা জেনে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। জনসভার ভিডিও ক্লিপিংও ভাইরাল হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।প্রার্র্থী মনোনয়ন নিয়ে সৌরাষ্ট্রে অসন্তোষ রয়েছে। ভাবনগরের মহুয়া আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী শিবাভাই গোহিলকে ফর্ম পূরণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে । একইভাবে বোটাদ ও গাড্ডা আসনেও ঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বোটাদে প্রার্থী কংগ্রেস থেকে আসা ঘনশ্যাম বিরানির বিরোধিতা করছেন ওই কেন্দ্রের বিজেপি নেতারা।সৌরাষ্ট্রে বিজেপির পর কংগ্রেসের সর্বত্রই বিক্ষোভের ঘূর্ণিঝড়।
আরও পড়ুনঃ বিজেপি যুব মোর্চাকে মিছিলের পথ পরিবর্তনের নির্দেশ হাইকোর্টের
কংগ্রেস গত অক্টবর মাসে ঘোষণা করেছিল বর্তমান দলীয় বিধায়কদের সকলেই পুনরায় মনোনয়ন পাবে। কিন্তু দলের আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর। পশ্চিম রাজকোটে মনসুখ কালরিয়ার নাম ঘোষণার আগেই কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের তুমুল বিক্ষোভে, ঘোষণা স্থগিত রাখতে হয়। হিতেশ ভোরা, সুরেশ বাথওয়ার রাজকোটে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শহরের কংগ্রেস নেতাদের অনুপস্থিতিতে ! রাজকোট-পূর্ব আসনে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল রাজ্যগুরু কে।শহর কংগ্রেসের একটি গোষ্ঠী এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিক্ষুব্ধদের বক্তব্য, গত এপ্রিল মাসে ইন্দ্রনীল রাজ্যগুরু দল ত্যাগ করে আম আদমি পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে আশা পূরণ না হওয়ায় আবার কংগ্রেসে ফিরে এসেছেন।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জগদীশ ঠাকুর কিছুদিন আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে যারা অন্য দল থেকে ফিরে এসেছেন তাদের টিকিট দেওয়া হবে না । রাজকোট পশ্চিম বিজেপির ঘাঁটি হলেও, কংগ্রেস সেখানে মনসুখ কালরিয়াকে টিকিট দেওয়ার জন্য নাম ভাসিয়েছে, সেখানে তীব্র বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। রঞ্জিত মুন্ধওয়া সহ বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতারা রাস্তায় নেমে কালরিয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান এবং গোপাল উন্ডুকতার জন্য টিকিট দাবি করেন। এই আসনে অতুল রাজানিকে কংগ্রেসের একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসাবে বিবেচনা করা হয় । প্রতিবাদের পরে, কংগ্রেস রাজ্যগুরুর নাম ঘোষণা করলেও, কালারিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়নি।




