খবর লাইভ : এসএসসি নিয়োগ (SSC Scam) দুর্নীতিতে সিবিআই (CBI) চার্জশিটে নাম নেই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee)। তবে এই দুর্নীতি-কাণ্ডের তদন্তে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কেন্দ্রীয় সংস্থা এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে তুলে ধরেছে। জানা গিয়েছে, এই চার্জশিটে নাম রয়েছে নিয়োগ দুর্নীতি-কাণ্ডের মিডলম্যান প্রসন্ন রায় ও প্রদীপ সিংয়ের।
এই চার্জশিটে নাম রয়েছে মোট ১২ জনের। নাম রয়েছে এসএসসি-র উপদেষ্টা কমিটির শান্তিপ্রসাদ সিনহা, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়েরও। চার্জশিটে সিবিআই উল্লেখ করেছে, করোনাকালে লকডাউন চলাকালীন এসএসসি অফিস ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগে বেলাগাম দুর্নীতি ও বেনিয়ম করেছেন এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য। এমনকী নিজের অপরাধ ঢাকতে একাধিক পন্থাও অবলম্বন করেছেন তিনি।
ইতিমধ্যে নিয়োগ দুর্নীতি-কাণ্ডে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলবন্দি পার্থ চট্টোপাধ্যায়। গত ২৩ জুলাই তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তারপর একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও নাকচ হয়েছে সেই আবেদন। অন্যদিকে গ্রেফতারির আগে সুবীরেশ ভট্টাচার্য সংবাদ মাধ্যমের সামনে দাবি করেছিলেন, তাঁর আমলে কোনও দুর্নীতি হয়নি। কিন্তু সিবিআই চার্জশিটে তাঁর নাম থাকায় আগামি দিনে আরও বিপাকে পড়তে পারেন জেলবন্দি এই শিক্ষাকর্তা।
চার্জশিটে সিবিআই আরও উল্লেখ করেছে, ২০১৬ সালের নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন সুবীরেশ ভট্টাচার্য। সিবিআইয়ের চার্জশিটে উল্লেখ আছে যে নিয়োগ দুর্নীতির ‘নাটের গুরু’ সুবীরেশ ভট্টাচার্য। দুর্নীতির একদিকে সুবীরেশ অন্যদিকে সঙ্গীরা হলেন এসপি সিনহা, অশোক সাহারা। চার্জশিটে সিবিআই জানিয়েছে, কোভিডকালে লকডাউন চলাকালীন আচার্য সদন ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগে চলেছে বেলাগাম বেনিয়ম।
সিবিআই চার্জশিটে উল্লেখ করেছে. এসএসসি-র অফিসে বসেই ভুয়ো সুপারিশ পত্র ছাপা হয়েছিল। ওই সুপারিশ পত্রের ভিত্তিতেই অবৈধ নিয়োগ হয়েছে। তৎকালীন চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার ছুটিতে থাকাকালীন এই দুর্নীতির কারবার চলে বলে সিবিআই তদন্তে জানতে পেরেছে। সৌমিত্রর ওপর দায় চাপাতেই তাঁর অনুপস্থিতিতে অবৈধ নিয়োগ করা হয়।
চার্জশিটে সিবিআই আরও উল্লেখ করেছে, ২০১৬ সালের নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থা ওএমআর শিট স্ক্যান করার পর সুবীরেশের কাছে সিডি জমা দেয়। সুবীরেশ সেটা ওয়েবসাইটে আপলোড করার জন্য প্রোগ্রামিং অফিসার পর্ণা বসুকে জমা দেন। যদিও তদন্ত চলাকালীন সেই সিডি খুঁজে পায়নি সিবিআই।
নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার মডেল উত্তরপত্রে ইতিহাসের উত্তর ভুল ছিল বলে অভিযোগ করেন পরীক্ষার্থীরা। অভিযোগ পেয়ে এসএসসি-র তরফে যাঁরা প্রশ্নপত্র তৈরি করেছিলেন, তাঁদের দিয়ে রিভিউ করানো হয়। সিবিআই-এর দাবি, সংশোধিত মডেল উত্তরপত্র ওয়েবসাইটে আপলোড করতে বাধা দেন তৎকালীন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য।
সুবীরেশের নির্দেশেই হাতে লেখা ফলাফল ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছিল। সিবিআই বলছে, সেটা এমনভাবে আপলোড করা হয়েছিল যাতে চাকরি প্রার্থীরা শুধু নিজের প্রাপ্ত নম্বর দেখতে পান
বাকি পরীক্ষার্থীরা কত নম্বর পেয়েছেন, তা দেখার উপায় ছিল না। দুর্নীতির জন্যই এমনটা করা হয়েছিল বলে দাবি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার।
সিবিআই চার্জশিটে লিখেছে, অবৈধ নিয়োগকে বৈধ দেখানোর জন্য ফলাফল প্রকাশের আগেই অযোগ্য প্রার্থীদের ওএমআর শিটের প্রাপ্ত নম্বর বদলে দেওয়া হয়। শুধু লেখা পরীক্ষা নয়, পার্সোনালিটি টেস্টেও অযোগ্য প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর বদল করা হয় বলে সিবিআই জানতে পেরেছে। তা চার্জশিটে উল্লেখও করেছে। একাধিক শিক্ষা কর্তা ছাড়াও সিবিআই চার্জশিটে নাম রয়েছে প্রসন্ন রায়, প্রদীপ সিংহের মতো মিডলম্যান ও কয়েকজন অবৈধভাবে নিয়োগ হওয়া শিক্ষকেরও।
শুধুমাত্র তাই নয়, সিবিআই উল্লেখ করেছে, এই দুর্নীতিতে যারা যুক্ত তাদের কেউ কেউ উপদেষ্টা স্তরের লোক, কেউ কেউ বা সরকারি অফিসার। এবং সকলেই শিক্ষিত, দুর্নীতির ছক কষার কূটবুদ্ধি ধরেন। এমনই কিছু অভিজ্ঞ, পারদর্শী এবং পরিপক্ব মস্তিষ্কের অসাধু অফিসার মিলে এসএসসি বা স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি সংঘটিত করেছিলেন ।




