খবর লাইভ : ইতিহাস বিকৃত হলে, ইতিহাসে সত্য সাধনা না-হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে শিক্ষকদের ঝুঁকি নিতে হবে বলে মনে করেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় অমর্ত্য সেনকে এই বিষয়ে এক স্কুলশিক্ষকের প্রশ্ন ছিল, যে ভাবে সিলেবাস থেকে ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করার কথা বলা হচ্ছে, সেই অবস্থায় এক জন শিক্ষকের ভূমিকা কী হবে? অমর্ত্যর জবাব, ”ইতিহাসের উদ্দেশ্যই হল সত্য সাধনা করা। ভুল করা হলে ঠিক করতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষকদের তার জন্য ঝুঁকি নিতে হবে।”
অমর্ত্য এই প্রসঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে বহু বিপ্লবীর জেল-যাত্রার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। ভারতের সংগ্রামী চরিত্রের কথা মনে করিয়ে তাঁর মন্তব্য, ”স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে কত মানুষ দ্বীপান্তরে গিয়েছেন, জেলে গিয়েছেন। সেই সবই তো আমরা জানি। ঝুঁকি নিয়েই তাঁরা সেই সময়ে ওই কাজ করেছেন।”
যদিও অমর্ত্যর এই মন্তব্যকে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত ‘অতিরঞ্জন’ হিসেবেই দেখার পক্ষপাতী। স্বপনের কথায়, ”সিলেবাস কমানো আর ইতিহাস থেকে কোনও কিছু বাদ দেওয়া এক নয়। সেটা হয়তো অমর্ত্যবাবু ভুলে গিয়েছেন।” বিজেপি সাংসদের সংযোজন, ”ভারতের ইতিহাসচর্চা শেষ হয়ে যায়নি। ইতিহাস লেখার প্রক্রিয়া আজও চলছে। ফলে কোনটা ইতিহাস আর কোনটা বিকৃতি, সেই ব্যাপারে এখনই অবস্থান নেওয়ার সময় আসেনি।” যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ইতিহাসবিদ সুরঞ্জন দাস অবশ্য সাফ বলছেন, ”ইতিহাস হবে তথ্যনিষ্ঠ। তাতে বিকৃতির কোনও জায়গা নেই।”




