National Special News Special Reports

মহারাষ্ট্রে মহা নাটকের অবসান,আস্থা ভোটের আগেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা উদ্ধব ঠাকরের

0
(0)

খবর লাইভ : মহা-নাটকের অবসান! জল্পনায় ইতি টেনে ইস্তফা দিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে আস্থা ভোটের পক্ষে রায় দেওয়ার পর ফেসবুক লাইভে এসে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন শিব সেনা ‘প্রধান’। পাশাপাশি বিধান পরিষদ সদস্য পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেবেন জসপ্রীত বুমরাহ

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে এতদিনের টানাপোড়নের পর আস্থা ভোটের প্রসঙ্গ আসতেই কেন পিছিয়ে এলেন উদ্ধব? তবে কি তিনি আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে চান না ? আসলে আগামিকাল বৃহস্পতিবার তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কালি ছেটানোর যাতে কোনও সুযোগ না মেলে, তাই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের মিনিট পনেরো পরেই পদত্যাগ করলেন তিনি।

বুধবার রাত নটা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টের রায় আসে। সেই রায়ে নির্দেশ দেওয়া হয়, আগামিকালই অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই বিধানসভায় আস্থা ভোট হবে। প্রসঙ্গত, আস্থা ভোটের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে এদিন সকাল সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল উদ্ধব ঠাকরের শিবির। আবেদন গ্রহণ করে শীর্ষ আদালত জানায়, বিকেল পাঁচটায় শুনানি হবে। অবশেষে রাত ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে না৷ যার অর্থ আগামিকালই বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে সরকারকে। এরপরই ফেসবুক লাইভে এসে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান উদ্ধব ঠাকরে।

এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান জানাচ্ছি। অবশ্যই গণতন্ত্র মেনে চলা হবে।” শুধু তাই নয়, তাঁর ওপর আস্থা রাখার জন্য কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী ও এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
উদ্ধব বলেন, ‘সংখ্যার রাজনীতিতে আমার আগ্রহ নেই৷ আমি শিবসেনা প্রেসিডেন্ট হিসেবেই কাজ চালিয়ে যেতে চাই৷’ আস্থা ভোটের নির্দেশ দেওয়ায় রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারিকেও ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি শিবসেনা সুপ্রিমো৷ তিনি বলেন, ‘রাজ্যপাল আমাদের আস্থা ভোটে যেতে বলেন৷ তিনি গণতন্ত্রকে সম্মান করেন৷ বিরোধী দলনেতার সঙ্গে দেখা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডেকে আস্থা ভোটের নির্দেশ দেন তিনি৷’
আস্থা ভোট নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় বুধবার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছিলেন উদ্ধব ঠাকরে৷ ওই বৈঠকে ঔরঙ্গাবাদ এবং ওসমানাবাদ শহরের নাম পরিবর্তনের পক্ষে সায় দেয় মন্ত্রিসভা৷ তখনও কারও জানা ছিল না, এটাই উদ্ধব সরকারের শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক৷ আর শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুই শহরের নাম পরিবর্তনের দীর্ঘদিনের দাবির মত আদায় করে নেয় সরকার৷
তিনি আরও বলেন, ‘আমার খারাপ লেগেছে এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিবসেনার মাত্র চারজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন৷ কংগ্রেস এবং এনসিপি কেউ দুই শহরের নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেনি৷ এ জন্য সোনিয়া গান্ধী এবং শরদ পাওয়ারকে ধন্যবাদ৷’
নাম না করে একনাথ শিন্ডেকে নিয়েও কটাক্ষ করেন উদ্ধব৷ তিনি বলেন, ‘শিবসেনা সবাইকে সাহায্য করেছে৷ সাধারণ মানুষ থেকে শিবসেনাতে এসে বড় নেতা হয়েছে৷ গাড়ি চালক রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছেন৷ শিবসেনা এদের জন্য অনেক কিছু করেছে৷’ উল্লেখ্য, শিবসেনার বিক্ষুব্ধ নেতা একনাথ শিন্ডে প্রথম জীবনে অটো চালক ছিলেন৷ এদিকে উদ্ধবের পদত্যাগের ঘোষণার পর টুইট করে শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত৷ তাতে লেখেন, আজ আমরা সংবেদনশীল এবং সংস্কৃতিমনস্ক মুখ্যমন্ত্রীকে হারালাম৷
বিদ্রোহী বিধায়কদের তিনি বলেন, যাঁদের শিবসেনা রাজকীয় জন্ম দিয়েছে, যাঁদের শিব সৈনিকরা বড় করেছে। তাঁদের ছেলেকেই এখন মাটিতে ফেলার চেষ্টা করছে। এই পাপ আমার, আমাকেই সহ্য করতে হবে।
তবে উদ্ধব ঠাকরে’র ইস্তফা দেওয়ার পরেই মহারাষ্ট্রে সরকার কারা গঠন করবে তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এমনকি আস্থাভোটের আগেই যেহেতু ইস্তফা দিলেন সেখানে অনেকগুলি প্রশ্ন সামনে আসছে বলে জানা যাচ্ছে।তবে শিন্ডে-বিজেপি জোট সরকার গড়ার দাবি জানাতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *